এআই ট্রাফিক ক্যামেরা ফাঁকি দিতে নম্বরপ্লেট ঢাকা সেই বাইকার জেলে!

জুন ২, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) আধুনিক ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের সংখ্যা আড়াল করে চলাচলের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরে ওই চালককে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও কয়েকদিনের সাজার আদেশ প্রদান করেন।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।

স্কচটেপ দিয়ে ঢাকা ছিল ৩টি সংখ্যা, ফেসবুকে ভাইরাল:

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাফিক প্রধান জানান, গত ১৯ মে এক মোটরসাইকেল আরোহী তাঁর গাড়ির নম্বরপ্লেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিট (সংখ্যা) সাদা স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ক্যামেরা এড়িয়ে চলাচল করছিলেন। পরে এই প্রতারণার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। গত ২১ মে বিষয়টি ডিএমপির উচ্চপর্যায়ের নজরে এলে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপির মতে, এআই প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার এই বিপজ্জনক কৌশল যদি অন্য চালকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, তবে পুরো ঢাকার ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকায় ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকা চালককে যেভাবে ধরল সিটিটিসি:

তদন্তের শুরুতে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে চালকের মুখমণ্ডল স্পষ্ট না থাকায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। পরবর্তীতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার ক্রাইম টিমের বিশেষ কারিগরি সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শত শত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়।

টানা অনুসন্ধানের পর মোটরসাইকেলের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য এবং নম্বরপ্লেটের আংশিক তথ্য মিলিয়ে সোমবার (১ জুন) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে লালবাগ থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই চালকের নাম লাবলু হক (৩৮)। তিনি রাজধানীর লালবাগ এলাকারই বাসিন্দা।

প্রযুক্তি ফাঁকি দিলে কঠোর ব্যবস্থা, বার্তা ডিএমপির:

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, “রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়ন বজায় রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে কেউ যদি অতি চালাকি করে নতুন আধুনিক প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার বা এড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, পুলিশের প্রধান লক্ষ্য নাগরিকদের শাস্তি দেওয়া বা হয়রানি করা নয়, বরং সড়কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে আইন লঙ্ঘনের এমন প্রকাশ্য ধৃষ্টতার ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের নাগরিকদের সঙ্গে শতভাগ পেশাদার ও সৌজন্যমূলক আচরণ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।



Leave a Comment