খান জাহান আলী মাজারের দীঘিতে শিশুকে টেনে নিয়ে গেল কুমির

জুন ১, ২০২৬ | Feature-2 |

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (র.) মাজারের দীঘির ঘাট থেকে ফাতেমা (৭) নামের এক অবুঝ শিশুকে কামড় দিয়ে পানির গভীরে টেনে নিয়ে গেছে দীঘির একটি বিশালাকার কুমির। আজ সোমবার (১ জুন) রাত ৮টার দিকে দীঘির সিঁড়িতে গোসল করতে নামার সময় এই লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিশু ফাতেমা মাজার প্রাঙ্গণেই বসবাসকারী এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান। সে মায়ের সাথেই মাজার এলাকায় ঘোরাঘুরি ও বসবাস করত।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো মাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

চিৎকার শুনে ছুটে এলেন স্থানীয়রা, নদীতে নৌকা নিয়ে তল্লাশি:

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের খাদেমরা জানান, সোমবার রাতে তীব্র গরমে শিশুটি দীঘির ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে পানিতে নামছিল। ঠিক তখনই দীঘিতে থাকা একটি কুমির হঠাৎ করে ভেসে উঠে ফাতেমাকে কামড়ে ধরে এবং মুহূর্তের মধ্যে পানির গভীরে টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এ সময় ফাতেমার আত্মচিৎকার শুনে মাজারে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও খাদেমরা দ্রুত ঘাটে ছুটে আসেন। তারা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি নৌকা নিয়ে দীঘির বিভিন্ন প্রান্তে নেমে শিশুটিকে কুমিরের মুখ থেকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু দীঘির পানি গভীর এবং রাত হয়ে যাওয়ার কারণে চোখের পলকে শিশুটি কুমিরসহ তলিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের নিবিড় উদ্ধার অভিযান:

খবর পাওয়া মাত্রই মাজার প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহায়তায় দীঘির চারপাশ ও গভীর পানিতে নিবিড় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১১টা) নিখোঁজ শিশু ফাতেমা বা তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া কুমিরটির কোনো সন্ধান মেলেনি। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে ফাতেমার বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে, যা মাজার এলাকায় উপস্থিত সবার চোখেই জল এনে দিয়েছে।



Leave a Comment