ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা জনগণ মেনে নেবে না, আন্দোলনের কর্মসূচি আসছে: শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যেকোনো ধরনের পাঁয়তারা দেশের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামী ব্যাংককে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে আবারও তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ইসলামী ব্যাংক উদ্ধারের জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এই ব্যাংক নিয়ে কাউকে টানাটানির সুযোগ দেওয়া হবে না।
বুধবার (৩ জুন) রাতে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা-১৫ আসনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট, অর্থনীতি ধ্বংসের চক্রান্ত:
জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক থেকে পরিকল্পিতভাবে ৩৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এখন আবারও ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। সাবেক সরকারের পতন ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দেশ এভাবে চলতে পারে না। একদল পালিয়ে গেছে পাশের দেশে, বাকি দল যাবে কোথায়?”
আমরা গৃহপালিত বিরোধী দল হব না:
সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী দেশের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে। জামায়াত কখনোই কোনো ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল হবে না।
হরমুজ প্রণালী সংকট ও জ্বালানি খাতে ভোগান্তি:
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে এবার অনেক মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। বিশেষ করে ইরান, লেবানন ও গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণ অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঈদ কাটিয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আমাদের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশে চলমান সংকট যদি কৃত্রিম বা মানবসৃষ্ট হয়, তবে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। আর যদি প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক কারণে হয়ে থাকে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংসদ যদি সঠিকভাবে কার্যকর হয়, তবে দেশের অনেক বড় সমস্যার সমাধান ওখানেই সম্ভব।
গ্যাসের দাম নিয়ে তামাশা ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি:
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমাগত দাম বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। গ্যাসের দাম ৭০০ টাকা বাড়িয়ে পরে মাত্র ৫০ টাকা কমানো জনগণের সাথে স্পষ্ট তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে স্বার্থ রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী শিগগিরই রাজপথে নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান তিনি।
কাফরুল পশ্চিম থানা সেক্রেটারি এস এম রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ঈদ পুনর্মিলনী সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।