দিল্লির অভিজাত হোটেলে ভয়াবহ আগুন: নিহত অন্তত ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি অভিজাত আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) সকালে দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগর এলাকার একটি হোটেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর হু হু করে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে আটকা পড়েন বহু মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধোঁয়া ও আগুনের শিখা থেকে বাঁচতে কয়েকজন হোটেলের জানালা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দেন।

খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে ও আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। এখন পর্যন্ত হোটেলটি থেকে ৩৭ জনকে উদ্ধার করে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

ঘুমের মাঝেই বিপত্তি, বেসমেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত:

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ নামের একটি বহুতল ভবন জুড়ে এই রেস্তোরাঁ ও হোটেলটি পরিচালিত হতো। ভবনের নিচের তলায় ছিল রেস্তোরাঁ এবং উপরের তলাগুলোতে আবাসিক হোটেল। আজ সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে হোটেলের বেসমেন্ট থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন হোটেলের বেশিরভাগ অতিথিই ঘুমাচ্ছিলেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ভেতরে আটকা পড়েন।

তথ্য অনুযায়ী, ওই আবাসিক হোটেলটিতে মোট ২৫টি কক্ষ ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশই ছিলেন বিদেশি নাগরিক, যাঁরা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকও থাকতে পারেন।

উদ্ধারে নামলেন প্রতিবেশীরা, পাতা হলো জাজিম-ম্যাট্রেস:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পরপরই পুরো ভবনটি ঘন কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। চোখের সামনে মানুষকে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারা। জানলা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়া মানুষদের প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি করে নিজেদের বাড়ি থেকে জাজিম, গদি ও ম্যাট্রেস এনে রাস্তায় বিছিয়ে দেন। স্থানীয়দের এই মানবিক তৎপরতার কারণে ওপর থেকে ঝাঁপ দেওয়া অনেকেই মারাত্মক জখম বা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে ওই এলাকার রাস্তা অত্যন্ত সরু এবং উৎসুক জনতার অতিরিক্ত ভিড় থাকার কারণে প্রথমদিকে দমকল বাহিনীর উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়।

তদন্তে ফরেনসিক টিম, শোক প্রকাশ মোদী ও মুখ্যমন্ত্রীর:

দক্ষিণ দিল্লির সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) জিতেন্দ্র কুমার গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভবনের রেস্তোরাঁ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে এটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দমকল বিভাগ ও পুলিশের ফরেনসিক টিম যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে দিল্লির এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা (Rekha Gupta)। তিনি জানান, দিল্লি সরকার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আহত ও নিহতদের পরিবারকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা প্রদান করা হবে।

অন্যদিকে দিল্লির মালব্য নগরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ২ লাখ রুপি এবং গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি করে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।



Leave a Comment