একসঙ্গে দুই দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে ৪০ বছর আগের উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

জুন ৪, ২০২৬ | Feature-1 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে মর্যাদাপূর্ণ জয়লাভের পর দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে একই সঙ্গে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশে ফিরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং এই দুই পদে থাকা না-থাকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন।

৪০ বছর আগের উদাহরণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা:

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে তাঁর এই আন্তর্জাতিক বিজয় সবার আন্তরিক প্রচেষ্টারই ফল। একসঙ্গে দুই পদে দায়িত্ব পালন করবেন কি না কিংবা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়বেন কি না—সাংবাদিকদের এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তিনি অতীতের একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে ধরেন।

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীও একইভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, “তখন আমি হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) ছিলাম এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত কাছ থেকে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। সাবেক সেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সময়ে দুটি দায়িত্বই পূর্ণকালীনভাবে সফলতার সাথে পালন করেছিলেন।”

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দায়িত্ব পালন এখন আরও সহজ:

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, “৪০ বছর আগের সেই সময়ে আজকের মতো ইন্টারনেট বা আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির কারণে একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন আরও অনেক বেশি মসৃণ ও দক্ষতার সাথে করা সম্ভব।” প্রযুক্তির এই যুগে দূরত্ব কোনো বাধা নয় বলেই তিনি মনে করেন।

একসঙ্গে দুই পদে বহাল থাকছেন কি না—এই প্রশ্নের চূড়ান্ত জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি আমি আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছি। বর্তমানে যিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি আছেন, উনি জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। উনি গ্রিন পার্টির নেতা ছিলেন; কিন্তু গ্রিন পার্টি নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারেননি।” জার্মানির সভাপতির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে নিজের পদের পার্থক্য টেনে ড. খলিলুর রহমান মূলত তাঁর ক্ষেত্রে দুটি দায়িত্বই একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন।



Leave a Comment