আগের সরকারের চুরি ও অর্থপাচারের আর্থিক বোঝা টানতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে: তথ্যমন্ত্রী

জুন ৬, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক চুরি এবং দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের কারণেই বর্তমান সময়ে এসে সাধারণ জনগণকে এই খাতের বাড়তি চাপে পড়তে হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ শনিবার (০৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

৬৫ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ:

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে যে নজিরবিহীন চুরি, অনিয়ম ও অর্থপাচার হয়েছে, তার বিশাল আর্থিক বোঝা বর্তমান সরকারকেও বহন করতে হচ্ছে।” তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যবৃদ্ধি করতে হলেও এর প্রভাব থেকে দেশের সাধারণ ও নিম্নআয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষায় রাখতে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও যোগ করেন, দীর্ঘদিনের গেড়ে বসা এই দুর্নীতির চক্র থেকে রাতারাতি পুরোপুরি বের হয়ে আসা সহজ নয় এবং এই শুদ্ধি প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে।

৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার:

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গ্রাহকদের জন্য একটি স্বস্তির খবর জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সামগ্রিকভাবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করলেও সরকারের বিশেষ অনুরোধে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে ‘শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট’ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বর্ধিত মূল্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই স্তরের সাধারণ গ্রাহকদের অতিরিক্ত কোনো মূল্য বা বিল পরিশোধ করতে হবে না।

ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত ও আমদানিনির্ভরতার সমালোচনা:

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, একই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনা থেকে বাজারে অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষের গণপরিবহন ও কৃষির কথা চিন্তা করে ‘ডিজেলের’ মূল্য দ্বিতীয় দফায় আর বাড়ানো হয়নি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বিগত সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করে তীব্র অভিযোগ তোলেন যে, অতীতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে একচেটিয়া সুবিধা পাইয়ে দিতে দেশের নিজস্ব উৎপাদনকে তোয়াক্কা না করে পুরো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল। সেই অসম ও স্বার্থান্বেষী চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব এখনও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাতে বিদ্যমান রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে সরকার নিরলস কাজ করছে।



Leave a Comment