নিয়ম না মেনে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়, ভারতকে ১২–১৩টি চিঠি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বিপাক্ষিক নিয়ম ও আন্তর্জাতিক আইন না মেনে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন (অনুপ্রবেশ) করানোর যেকোনো চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ভারতের এই অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা বন্ধ করতে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে ইতিমধ্যে ১২ থেকে ১৩টি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ সোমবার (৮ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যুতে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই কড়া বার্তার কথা জানান।
‘অবৈধ অবস্থানকারীদের ফেরতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে’:
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যারা প্রকৃতপক্ষে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের নিজ দেশে ফেরত দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। ভারত যদি কাউকে ফেরত পাঠাতে চায়, তবে সেই দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনুসরণ করেই তাদের ফেরত পাঠাতে হবে; জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেওয়া যাবে না। দিল্লির এই একতরফা পুশইনের চেষ্টা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সীমান্তে বিজিবির শক্ত অবস্থান ও বিএসএফের পিছুটান:
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে চালানো পুশইনের যেকোনো ধরনের অবৈধ চেষ্টা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অত্যন্ত শক্ত হাতে মাঠে থেকে প্রতিহত করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে এই কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জোরপূর্বক বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কঠোর ও তৎপর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ সীমান্তে জড়ো করা মানুষদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।