জনরায় মানে না যে সরকার, সে সরকার জনগণের হতে পারে না: ডা. শফিকুর রহমান

June 13, 2026 | Feature-2 |

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এমপি বলেছেন, “দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকার যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে। জনরায় মানে না যে সরকার, সে সরকার কখনো জনগণের সরকার হতে পারে না।”

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢলে লালদীঘি ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

সংসদে ও রাজপথে প্রতিবন্ধকতার সমালোচনা:

জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। উল্টো ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন এবং চরম দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদে জনগণের মূল সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ সংসদ হওয়ার কথা ছিল জনগণের প্রকৃত কথা বলার একমাত্র জায়গা।”

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগের ঘোষণা:

দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রিয় জন্মভূমিকে রক্ষা করবে। আমরা জাতির সঙ্গে কখনো বেঈমানি করব না; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও আমরা প্রস্তুত আছি।”

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি:

দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমীরে জামায়াত। তিনি বলেন, “দেশে একটি প্রকৃত নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে জেঁকে বসা এসব অপসংস্কৃতির চিরতরে অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম সংসদেও চলবে, রাজপথেও চলবে। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা যাবে না।”

১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।



Leave a Comment