আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েক কুপিয়ে হত্যা

June 14, 2026 | Feature-2 |

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিজ ঘরের ভেতর মা ও মেয়েকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ৫ বছরের এক শিশু বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাঁদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে নিহত এনি বড়ুয়ার ৫ বছর বয়সী ছোট ছেলে পিয়াস বড়ুয়া।

রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু:

স্থানীয় ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, রাতে সুজন বড়ুয়ার ঘর থেকে হঠাৎ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। প্রতিবেশী সুরভী বড়ুয়া (৪০) জানান, “চিৎকার শুনে আমরা ঘর থেকে বের হয়ে দেখি দরজার পাশে এনি বড়ুয়া এবং তাঁর ছোট ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছে। আর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘরের ভেতরের মেঝেতে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, কিন্তু তার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও মেয়ে মারা যান। পরে আমরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাই।”

স্বামীর দাবি: টাকা ও দলিলের লোভে প্রতিবেশী লিমন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে:

হত্যাকাণ্ডের সময় নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই তিনি গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে সুজন বড়ুয়া বলেন, “আমি শহরে ছিলাম। রাতে আমার বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি আমার সব শেষ হয়ে গেছে।”

হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক বিরোধের ইঙ্গিত দিয়ে সুজন বড়ুয়া দাবি করেন, “প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে আমার বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ছিল। হয়তো সে রাতে আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্ত্রীর কাছে ওই লেনদেন সংক্রান্ত মূল্যবান কাগজপত্র ও দলিলের সন্ধানে ঘরে প্রবেশ করে। কাগজপত্র না পেয়ে বা চিনে ফেলার কারণে সে আমার স্ত্রী ও কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। মৃত্যুর আগে আমার স্ত্রী এনি বড়ুয়া প্রতিবেশীদের কাছে লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র নাম বলে গেছেন।”

তদন্তে পুলিশ, আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন:

ডাবল মার্ডারের এই লোমহর্ষক ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধসহ সব দিক মাথায় রেখে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

একই রাতে মা-মেয়ের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো পরৈকোড়া ইউনিয়নসহ আনোয়ারা উপজেলায় চরম ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘাতক লিমন বড়ুয়াসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



Leave a Comment