চট্টগ্রাম বন্দর ও শ্রম অধিদপ্তরে শ্রমিক লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে: লুৎফর রহমান

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, দেশের শিল্পাঞ্চল ও শ্রম অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘শ্রমিক লীগ’-এর অপতৎপরতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এই অপচেষ্টা এখনই কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে; অন্যথায় সরকার ও রাষ্ট্রকে এর জন্য মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) বাদ মাগরিব বন্দরনগরীর জামালখানস্থ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর কার্যালয়ে ‘ট্রেড ইউনিয়ন সাংগঠনিক পক্ষ’ ও ‘ট্রেডভিত্তিক দাওয়াতি পক্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত সেক্টর নেতৃবৃন্দের এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে সভাপতির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী।

বন্দর ও শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:

এস এম লুৎফর রহমান তাঁর বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর, শ্রম অধিদপ্তর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-কারখানাকে ঘিরে নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগের নানামুখী অপতৎপরতা এবং তাদের কৌশলে পুনর্বাসনের চেষ্টা নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর এবং দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো অসৎ নেতৃত্ব যদি ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো নোংরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তবে প্রকৃত মেহনতি শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হবে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শিল্প-কারখানা ও উৎপাদন খাতকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান ও উপস্থিতি:

সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহানগর সভাপতি বলেন, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, ট্রেডভিত্তিক দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো কালো টাকা বা পেশিশক্তির জোরে নয়, বরং আদর্শ, সততা ও জনকল্যাণভিত্তিক সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই শ্রমিক সমাজের প্রকৃত আস্থা অর্জন সম্ভব। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আপসহীন ভূমিকা পালন করবে এবং কোনো অপশক্তিকে শ্রমিক আন্দোলনকে ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, আইন আদালত সম্পাদক সাব্বির আহমদ উসমানি এবং চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প ও উৎপাদন সেক্টরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



Leave a Comment