সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: জামায়াত এমপি
সংসদীয় প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ঢোকার পর স্পিকারের আসনের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার রীতি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি ‘শিরক’-এর কাছাকাছি চলে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি সংসদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে কার্যপ্রণালি বিধিতে এই ‘শিরক’ উৎখাত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে, যা স্পিকারসহ সংসদের সবার মেনে চলা উচিত। এতে নেকি হবে এবং গুনাহ থেকে বাঁচা যাবে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা এসব কথা বলেন। জবাবে অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তিনি কার্যপ্রণালি বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর) বিস্তারিত পর্যালোচনা করে এই বিষয়ে পরে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
ঝুঁকে সম্মান প্রদর্শন বাদ দেওয়া হয়েছে:
সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “আমাদের কার্যপ্রণালিবিধিতে পূর্বে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। পরবর্তীতে এটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির বৈঠক বা সভায় আমিও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত একটি সংশোধনীর মাধ্যমে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার বিষয়টি বাতিল ও বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এটি ইসলামের একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং শিরকের কাছাকাছি চলে যায়।”
স্পিকারের উদ্দেশে জামায়াতের এই প্রবীণ নেতা বলেন, “আমি মাঝে মাঝে খেয়াল করি আপনি সংসদ কক্ষে সুন্দরভাবে মুখে সালাম দেন, আমরাও আনন্দের সাথে জবাবে সালাম দিই। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায়, সংসদে ঢোকার সময় এরকম করে একটু ওই আগের ঝুঁকুনিটা (মাথা ঝুঁকানো) এখনো অবচেতনভাবে রয়ে গেছে। আপনার ক্ষেত্রেও যেমন দেখা যায়, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারের ক্ষেত্রেও তেমনটা লক্ষ্য করা যায়। সেজন্য আমি বিনীত অনুরোধ করি, কার্যপ্রণালিবিধিতে শিরককে উৎখাত করার জন্য যে সুন্দর বিধি বা সংশোধনী করা হয়েছে, আমার মনে হয় সেটা স্পিকারসহ সংসদের সবার অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা উচিত। এর মাধ্যমে যেমন নেকি অর্জন হবে, তেমনি আমরা এক বড় গুনাহ থেকেও বাঁচতে পারব।”
মুজিবুরের বক্তব্যে আরেক জামায়াত এমপির সমর্থন:
এমপি মুজিবুর রহমানের এই বক্তব্যের প্রতি তাৎক্ষণিক পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “সম্মানিত সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সাহেব সংসদে যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, সেটা সম্পূর্ণ ‘ভ্যালিড’ (যৌক্তিক ও আইনসংগত)। তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যে অনেক সময় কেউ কেউ এখনো মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করছেন, যা মূলত তাঁর পছন্দ হয়নি। একই সাথে তিনি বিষয়টিকে সংসদের বর্তমান নিয়মের পরিপন্থী ও রীতির খেলাপ বলে মনে করেন। সে কারণেই ধর্মীয় অনুভূতি এবং সংসদের নতুন রুলসের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি আজ হাউজে উত্থাপন করেছেন।”
রুলস অব প্রসিডিউর দেখে সিদ্ধান্ত দেব: স্পিকার:
দুই সংসদ সদস্যের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টা মূলত যার যার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও বিশ্বাসের বিষয়। কেউ সংসদ কক্ষে ঢুকে সালাম দেবেন, কেউ অন্য কোনো ইশারা বা উপায়ে সম্মান জানাবেন—এটি সারা পৃথিবীর সংসদীয় নীতিতেই আছে। তারপরও যেহেতু একটি আইনি ও বিধিগত প্রশ্ন এখানে উত্থাপন করা হয়েছে, আমি সংসদের ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ বা কার্যপ্রণালি বিধি খুব ভালো করে খতিয়ে দেখব যে বিগত সংসদে এই ধারাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বা সংশোধন করা হয়েছে কিনা। বিধিমালা ভালো করে দেখে ও পরীক্ষা করে পরবর্তীতে আমি এ বিষয়ে আমার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হাউজকে জানিয়ে দেব।”