ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৮

June 16, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের সামান্য পরেই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-৫২ (B-52 Stratofortress) স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায় এবং এতে থাকা ক্রুসহ মোট আটজন আরোহীর সকলেই নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের বিশেষ প্রতিবেদনে এই ট্র্যাজেডির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভে মরুভূমিতে অবস্থিত বিখ্যাত এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির রানওয়ের কাছে একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশন পরিচালনার সময়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন বোমারু বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মরুভূমির আকাশজুড়ে বিশাল ও ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়, যা মাইলের পর মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল।

রাডার আধুনিকীকরণ মিশনে ছিল বিমানটি:

বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির ৪১২তম টেস্ট উইংয়ের ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল জেমস হেইস অত্যন্ত আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, “আজ এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় আমরা আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি।”

কর্নেল হেইস আরও জানান, বিধ্বস্ত বি-৫২ বোমারু বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীর ‘রাডার আধুনিকীকরণ কর্মসূচি’ (Radar Modernization Program)-র অংশ হিসেবে অ্যানালগ থেকে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এসা (AESA) রাডার সিস্টেমে রূপান্তরের পর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ফ্লাইটে যুক্ত ছিল।

কারো বেঁচে ফেরা সম্ভব ছিল না:

প্রাথমিকভাবে নিহতদের সুনির্দিষ্ট নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি বেসামরিক কর্মচারী এবং বিমানটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর শীর্ষ প্রকৌশলী ও সরকারি ঠিকাদারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ যৌথ দল (Mixed Crew) ছিলেন। বোয়িং কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে তাদের দুজন কর্মী ওই বিমানে কর্মরত ছিলেন। বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, দুর্ঘটনাটি এতটাই মারাত্মক, আকস্মিক ও বিধ্বংসী ছিল যে সেখান থেকে আরোহীদের কারো বেঁচে ফেরা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

এভিয়েশন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উড্ডয়নের পরপরই অত্যন্ত কম উচ্চতায় থাকা অবস্থায় বিমানটি কোনো ধরনের ‘ফ্লাইট কন্ট্রোল মালফাংশন’ বা নিয়ন্ত্রণহীনতার শিকার হয়ে সরাসরি মাটিতে আছড়ে পড়েছে। বিমান বাহিনীর মেটেরিয়েল কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল লিন্ডা হারি এবং বিমান বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল কেনেথ উইলসবাখ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মার্কিন বিমান বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে, যা সম্পন্ন হতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ঠান্ডা লড়াইয়ের সময়কাল অর্থাৎ ১৯৫৫ সাল থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীতে যুক্ত থাকা আট ইঞ্জিনের এই বিশাল পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বোমারু বিমানটির বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় বিপর্যয়।



Leave a Comment