২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬৬১
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক: দেশজুড়ে যেন থামছেই না হামের ভয়াবহ প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামসংক্রান্ত বিশেষ জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬১ জনে, যার সিংহভাগই শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১১ জনের শরীরে প্রাণঘাতী হামের সংক্রমণ বা ল্যাব শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের তীব্র লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯৬৬ জন নতুন রোগী।
হাম ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর সর্বশেষ পরিসংখ্যান:
| সময়কাল (১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন ২০২৬) | ল্যাব নিশ্চিত (শনাক্ত) মৃত্যু | উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহভাজন) মৃত্যু | সর্বমোট প্রাণহানি |
| গত ২৪ ঘণ্টায় | ০ জন | ৪ জন | ৪ জন |
| সর্বমোট (চলতি মৌসুম) | ৯৩ জন | ৫৬৮ জন | ৬৬১ জন |
মৃত্যুর শীর্ষে ঢাকা বিভাগ, দ্বিতীয় স্থানে রাজশাহী:
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিসংখ্যানের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলমান হামের প্রাদুর্ভাগে দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ঢাকা বিভাগ। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত কেবল ঢাকা বিভাগেই হামের মারাত্মক লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ২৩৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে একক বিভাগ হিসেবে সর্বোচ্চ।
ভয়াবহতার এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে রাজশাহী বিভাগ। রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ পর্যন্ত হামের ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৭ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী হার বিবেচনা করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দেশজুড়ে দ্রুত বিশেষ টিকাদান (ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন) জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সতর্কতা:
স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাম একটি তীব্র ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুর শরীরে অতিরিক্ত জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং চামড়ায় লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হামের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিস্কের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলসহ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।