বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল: “জনগণের কল্যাণের জন্য আমরা যে মেগা বাজেটে সব ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, সেই বাজেটকে যারা ঢালাওভাবে ‘গণবিরোধী’ বলে চিৎকার করছেন, তারা আর যাই হোক কখনও এ দেশের সাধারণ জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না,” বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশ থেকেই তিনি দেশব্যাপী সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর অন্যতম বৃহৎ কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ও ঐতিহাসিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বাজেট নিয়ে বিরোধীদের ‘চানাচুর’ মন্তব্যের কড়া জবাব:
সম্প্রতি সংসদে ঘোষিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার তীব্র জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “যে জনবান্ধব বাজেটের মাধ্যমে আমরা এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য আমূল পরিবর্তন করতে চাই, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সেই গুরুত্বপূর্ণ বাজেটকে একদল দায়িত্বহীন মানুষ চানাচুরের সাথে তুলনা করেছে। যে বাজেটে দেশের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে এক ধাক্কায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, সেই বাজেটকে কোন মুখে তারা গণবিরোধী বলে? জনগণের ভালো যারা সহ্য করতে পারে না, তারা মূলত গণশত্রু।”
তিনি দৃঢ়তার সাথে আরও বলেন, “যারা অবান্তর প্রশ্ন তোলেন যে—ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষক কার্ডের বিপুল টাকা কোথা থেকে আসবে, তাদের উদ্দেশ্যে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই দেশে জনগণের টাকা আর কাউকে পাচার করতে দেওয়া হবে না। বিগত সময়ে যারা এ দেশের মানুষের রক্ত পানি করা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আজ থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের টাকা উদ্ধার করে সেই টাকা দিয়েই জনগণের টেকসই উন্নয়ন করা হবে, দেশে কোনো টাকার অভাব হবে না।”
শ্রীমঙ্গলের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ৪ মেগা ঘোষণা:
চা শ্রমিকদের শতভাগ অন্তর্ভুক্তি: আগামী ১ বছরের মধ্যে দেশের সব চা বাগানের শতভাগ নারী শ্রমিককে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় এনে তাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
৪০ লাখ পরিবারকে কার্ড প্রদান: অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে প্রান্তিক ও উপযুক্ত ৪০ লাখ পরিবারের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে।
উপজেলা হাসপাতালের আধুনিকায়ন: তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে।
বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ: উপজেলা হাসপাতালের এই আসন বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য চলতি জাতীয় বাজেটে ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে উপজেলার মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য শহরে দৌড়াতে না হয়।
জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য:
নিজের দলের রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মূল রাজনীতিই হচ্ছে যেকোনো সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশকে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ক্ষমতার মোহ আমাদের নেই, দেশের প্রতিটি অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের দৃশ্যমান পরিবর্তন করাই আমাদের এই নির্বাচিত সরকারের একমাত্র মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।”
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।