সীমান্তে হত্যা বন্ধে সরকার ও বিজিবি নিরলস কাজ করছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদ প্রতিবেদক: সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ এবং ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার সব সময় সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বিএসএফের ‘লেথাল উইপনস’ (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।” বিএসএফ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী (নন-লেথাল) অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি বারবার দিলেও সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার ও বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে এ দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।
কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বন্দি:
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কারাগারগুলোর বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছেন।
কারাগারের বর্তমান পরিসংখ্যান:
| বিষয় | তথ্য |
| অনুমোদিত ধারণক্ষমতা | ৪৫,১৩৬ জন |
| বর্তমান বন্দি সংখ্যা | ৭৭,০৪০ জন |
| পুরুষ বন্দি | ৭৪,০৩৬ জন |
| নারী বন্দি | ২,০৭৭ জন |
কারাগারের এই আবাসন সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ), সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ খুব দ্রুত চালু হবে। ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প শেষ হলে ধারণক্ষমতা আরও ২,৯৫৫ জন বৃদ্ধি পাবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট সেবায় নতুন উদ্যোগ:
সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারের গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ:
মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে): বিদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের আবেদন গ্রহণের সুবিধার্থে বিভিন্ন মিশনে এই কিট চালু করা হয়েছে।
হোম ডেলিভারি: আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসীদের বাসায় পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
দ্রুত সরবরাহ: আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘ফেডএক্স’-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদী পাসপোর্ট: ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ইস্যুর ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যা নবায়নের ঝামেলা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।