বিজেপি নেতাসহ ৩ জনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা

জুন ১৮, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু উত্তোলন ও খনি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক প্রভাবশালী নেতাসহ অন্তত তিনজনকে গাড়ির ভেতর জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যরা একাধিক ভারী ট্রাক দিয়ে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে একটি বিলাসবহুল এসইউভি (SUV) গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ (NDTV)-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজ্যের কোরিয়া জেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

পরিকল্পিত ফাঁদে পড়ে লাল্লা সিংয়ের মৃত্যু:

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি হলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিং। মঙ্গলবার গভীর রাতে সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে বালু মহাল পরিচালনা সংক্রান্ত একটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও বাণিজ্যিক বিরোধের মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে নিহত বিজেপি নেতার স্বজনদের অভিযোগ, ভারত সিং আসলে প্রতিপক্ষের একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।

নৃশংসতার বিবরণহতাহত ও আইনি পদক্ষেপের আপডেট
১. চতুর্মুখী অবরোধ: ভারত সিং ও তাঁর সঙ্গীরা যে ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে ঘাতকেরা। গাড়িটির সামনে ও পেছনে বড় বড় ট্রাক দাঁড় করিয়ে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।জ্যান্ত দগ্ধ হয়ে নিহত ৩:
১. ভারত সিং (বিজেপি নেতা)
২. বীরেন্দ্র সিং
৩. নগেন্দ্র সিং
২. পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ: গাড়িটি সম্পূর্ণ লক হয়ে যাওয়ার পর ঘাতকেরা গাড়িটির ওপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নেভার পর ভেতর থেকে ৩টি কয়লা হয়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়।আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ১:
মায়াঙ্ক সিং (বিলাসপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন)।
৩. মূল বিরোধের উৎস: ভারত সিংয়ের পরিবারের সাথে অপর বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠীর পরিবারের মধ্যে সোনহাত ও কৈলাশপুরসহ বেশ কয়েকটি বালু মহালের ইজারা, পরিবহন ও চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক মাস ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল।৪ জন গ্রেফতার:
পুলিশ এ পর্যন্ত ত্রিপাঠী পরিবারের ৪ সদস্য—অক্ষত, বিশাল, সত্যপ্রকাশ ও মন্নু ত্রিপাঠীকে গ্রেফতার করেছে। মোট ৯ জনের নামে মামলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইয়ের কড়া হুঁশিয়ারি:

কোরিয়া জেলার ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় বিধায়ক ভাইয়ালাল রাজওয়াড়ে। সাবেক বিধায়ক গুলাব কামরো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের ফাঁসির দাবি করেছেন।

এদিকে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই আজ এক বিবৃতিতে জানান, কোরিয়া জেলার এই জঘন্য অপরাধের বিষয়টি তাঁর সরাসরি নজরে এসেছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইতোমধ্যেই ঘটনার মূল চক্র হোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। অপরাধী যত বড় রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, দোষী সাব্যস্ত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”



Leave a Comment