শান্তি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, নজিরবিহীন বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট যখন ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করছে, তখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা জোরদার, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে বেসামরিক সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর ২০২৬ সালের ‘হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে’ দেওয়া এক নীতি-নির্ধারণী বক্তব্যে বাংলাদেশের এই অনমনীয় অবস্থান তুলে ধরেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় তিনি বৈশ্বিক মানবিক নীতি ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা:
জাতিসংঘের ইকোসক সেশনে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন এবং যেকোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর শতভাগ সহায়তায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
জাতিসংঘে বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রধান ৩টি কূটনৈতিক এজেন্ডা:
| সেশনের নাম ও ফোরাম | বাংলাদেশের মূল অবস্থান ও বক্তব্য | আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান |
| ১. ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান সেগমেন্ট | দুর্যোগ মোকাবিলা ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশের মডেল উপস্থাপন। | বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দেখা দেওয়া চরম অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। |
| ২. নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্ক | সংঘাত প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বাংলাদেশি নারী ব্লু-হেলমেটদের সাফল্য গাঁথা। | জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি খাতের মূল নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের পদায়ন আরও বাড়াতে হবে। |
| ৩. রোহিঙ্গা সংকট নিরসন | বাংলাদেশে আশ্রিত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন স্থবির হয়ে থাকা। | রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা সচল রাখার পাশাপাশি তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, টেকসই ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘকে কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। |
বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের ভূয়সী প্রশংসা:
একই দিনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (WPS) বিষয়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেখানে তিনি সংঘাত-পরবর্তী দেশ পুনর্গঠন ও বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বন্ধে নারীদের কৌশলগত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নিয়োজিত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের (ব্লু-হেলমেট) সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, অদম্য নেতৃত্ব ও অনন্য অবদানের কথা বিশ্বমঞ্চে গর্বের সাথে তুলে ধরে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান মানবিক দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আজকের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কর্মসূচি:
জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, সফরের পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ইকোসকের ২০২৬ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের ‘হাই-লেভেল প্যানেল ডিসকাশন-২’-এ অংশ নেবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই দিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’ (UN Women)-এর আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।