সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি ১২৭ বারও, নতুন তারিখ ২২ জুলাই

জুন ১৮, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: হত্যাকাণ্ডের এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও উন্মোচিত হলো না সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার রহস্য। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা আদালতে জমা দিতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স। প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আগামী ২২ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন। এ নিয়ে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ১২৭ বারের মতো সময় পেল তদন্ত সংস্থা।

মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম রাসেল জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘বাসস’-কে সময় পেছানোর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফিরে দেখা ২০১২: পশ্চিম রাজাবাজারের সেই কালো রাত:

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের একমাত্র শিশুসন্তান মাহির সারোয়ার মেঘ। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে ডিবি পুলিশ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়। পরবর্তীতে তদন্তে ব্যর্থতা স্বীকার করলে আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের এপ্রিলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল র‌্যাবকে। তবে দীর্ঘ এক যুগেও তারা আদালতে কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও টাস্কফোর্সের তদন্তের বর্তমান গতিপথ:
র‌্যাবের দীর্ঘ ব্যর্থতার পর উচ্চ আদালত মামলার তদন্তভার নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্সকে প্রদান করেন। বিগত দুই বছরের আইনি আদেশসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪: হাইকোর্ট মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স’ গঠন করেন এবং ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

২২ এপ্রিল ২০২৫: টাস্কফোর্সের প্রথম ৬ মাসের মেয়াদ শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষ আরও ৯ মাস সময় চায়। আদালত শুনানি শেষে নতুন করে আরও ৬ মাস সময় মঞ্জুর করেন এবং আদেশের জন্য ২২ অক্টোবর ২০২৫ দিন ধার্য করেন।

২৩ অক্টোবর ২০২৫: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হলে আদালত তাদের আরও ৬ মাস সময় বাড়িয়ে দেন।

২৬ এপ্রিল ২০২৬: সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল মামলার তদন্ত শেষ করতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে পুনরায় আরও ৬ মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ:

উচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী টাস্কফোর্সের বর্তমান বর্ধিত মেয়াদ এখনও চলমান থাকলেও, নিম্ন আদালতে আজ ১২৭তম বারের মতো তারিখ পেছানোর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশের সাংবাদিক সমাজ। সংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কুশীলব ও খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিলের জন্য নবগঠিত টাস্কফোর্সের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।



Leave a Comment