হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে গ্রুপ পর্বের শীর্ষে ব্রাজিল
ক্রীড়া প্রতিবেদক: প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল অবশেষে স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাতেউস কুনার জোড়া গোল এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের একক নৈপুণ্যে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সেলেসাওরা। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ ‘সি’-এর টেবিল টপার এখন কার্লো আনচেলত্তির শীর্ষশিষ্যরা। অন্যদিকে, টানা দুই হারে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল হাইতির।
আজ শনিবার (২০ জুন) ফিলাডেলফিয়ার স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার মিশনের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামে সেলেসাওরা।
ভাগ্যের ছোঁয়া ও কুনার ব্যক্তিগত জাদু:
ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে আজ ব্রাজিলের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন মাতেউস কুনা। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় প্রথম গোলটি পায় ব্রাজিল। হাইতির ডিফেন্ডার হ্যানেস ডেলক্রোইক্স বল ক্লিয়ার করতে গেলে তা কুনার গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায় (১-০)। তবে ৩৬তম মিনিটে কুনার দ্বিতীয় গোলটি ছিল নিখুঁত ব্যক্তিগত স্কিল। ভিনিসিউস জুনিয়রের চমৎকার পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে এক দর্শনীয় শটে হাইতির জাল কাঁপান তিনি (২-০)।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) ব্যবধান ৩-০ করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। সাবেক ওয়েস্ট হ্যাম মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার ডিফেন্স চেরা পাস থেকে বল পেয়ে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় হাইতিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার। চলতি বিশ্বকাপে এটি ভিনির দ্বিতীয় গোল।
ব্রাজিল বনাম হাইতি: ম্যাচের লাইভ স্কোরকার্ড ও ঐতিহাসিক রেকর্ড বুক:
| ম্যাচের মূল সূচক ও রেকর্ড | ব্রাজিল (Brazil) | হাইতি (Haiti) |
| ফাইনাল স্কোর ও গোলদাতা | ৩-০ (কুনা ২৩’ ও ৩৬’, ভিনিসিউস ৪৫+’) | ০-০ (বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত) |
| দলের গড় বয়স (ঐতিহাসিক রেকর্ড) | ৩০ বছর ১৯০ দিন (১৯৬২ সালের পর ব্রাজিলের সবচেয়ে বয়স্ক দল) | তুলনামূলক তরুণ দল। |
| টিনএজারদের রেকর্ড (অনূর্ধ্ব-২০) | ইতিহাসে ২য় বার এক ম্যাচে দুই অনূর্ধ্ব-২০ তরুণের (রায়ান ও এন্ড্রিক) অভিষেক। | রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল পুরো ম্যাচ। |
| ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ও ইনজুরি | বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনিয়া প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। | অ্যালিসন ব্যাকারের দুর্দান্ত সেভে আদের হেড থেকে গোলবঞ্চিত। |
পেলের ১৯৫৮ সালের রেকর্ডে ভাগ বসাল দুই কিশোর:
এই ম্যাচটিতে ব্রাজিল দল অনন্য দুটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ (গড় বয়স ৩০ বছর ২১৬ দিন) জয়ের পর এই প্রথম সবচেয়ে বেশি বয়সী দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল সেলেসাওরা, যাদের গড় বয়স ছিল ৩০ বছর ১৯০ দিন।
পাশাপাশি ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে ১৯৫৮ সালের পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার একই বিশ্বকাপ ম্যাচে ২০ বছরের কম বয়সী দুজন টিনএজারকে একসাথে ব্যবহার করা হলো। ১৯৫৮ সালে ওয়েলসের বিপক্ষে কিংবদন্তি পেলে ও মাজেলা একসাথে খেলেছিলেন, আর আজ ২০২৬ বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে একসাথে মাঠ মাতালেন রায়ান ও এন্ড্রিক। ম্যাচের শেষদিকে ওয়ান্ডার কিড এন্ড্রিক বল জালে জড়ালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
রাফিনিয়ার চোট ও অ্যালিসনের দেয়াল:
ব্রাজিল বড় জয় পেলেও সেলেসাও শিবিরে নতুন দুশ্চিন্তার নাম বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনিয়ার চোট। প্রথমার্ধেই গুরুতর ইনজুরিতে পড়ে তিনি মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে নামেন বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। দ্বিতীয়ার্থের মাঝামাঝি সময়ে হাইতির অধিনায়ক রিকার্দো আদে কর্নার থেকে এক বুলেটগতির হেডে প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন, তবে ব্রাজিলীয় প্রাচীর খ্যাত গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার অবিশ্বাস্য এক ‘সেভ’ করে দলকে ক্লিনশিট উপহার দেন।