প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী; বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন দেশটির ধর্মমন্ত্রী

June 21, 2026 | Feature-2 |

বিশেষ প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও রাজকীয় ‘লাল গালিচা সংবর্ধনা’ (রেড কার্পেট রিসেপশন) দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজ রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্স’ এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

বিমানবন্ধরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার:

ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান দেশটির ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা অত্যন্ত প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি ডা. জুবাইদা রহমানকে। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

লাল গালিচা সংবর্ধনার পাশাপাশি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রীয় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। সুসজ্জিত বাহিনীর সালাম গ্রহণের সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের বিলাসবহুল ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় দৃষ্টিনন্দনভাবে সজ্জিত করা হয়।

একনজরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও সোমবারের হাইভোল্টেজ এজেন্ডাসমূহ:
শীর্ষ সফরসঙ্গীগণ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সোমবারের মূল কর্মসূচি (২২ জুন): সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানাবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও চুক্তি: দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একান্ত বৈঠক (ওয়ান-টু-ওয়ান) এবং এরপর উভয় দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এই সফরে মালয়েশিয়ার সাথে পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

বাণিজ্য ও শ্রমবাজারে নতুন সমীকরণ:

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান বাংলাদেশে সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে দূরভাষে অভিনন্দন জানান এবং কুয়ালালামপুর সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে মালয়েশিয়া বেশ এগিয়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম সরকারি সফরে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের শ্রমবাজারের নিরাপত্তা ও নতুন জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচনে এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।



Leave a Comment