সাবেক সংসদ সদস্য ও দেশের শীর্ষ নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ আর নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমাদ মেরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি এবং নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদের স্ত্রী তিনি। এফবিসিসিআই-এর একটি দায়িত্বশীল সূত্র তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
থাইল্যান্ড থেকে লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে:
পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সূত্রে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর মরহুমার মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তাঁর নামাজে জানাজা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে দেশের ব্যবসায়ী মহল, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একনজরে নারী জাগরণের অগ্রদূত সেলিমা আহমাদের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম:
জন্ম ও শিক্ষা: ১৯৬০ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ডেনমার্ক ও কানাডায় ব্যবসা ও নেতৃত্ব বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।
ব্যবসায়িক অবদান: দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী নিটল-নিলয় গ্রুপের অটোমোবাইল, সিমেন্ট, কাগজ, রিয়েল এস্টেট, ইলেকট্রনিকস ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নারী নীতি ও বিডব্লিউসিসিআই: ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠা করেন। দেশে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।
রাজনৈতিক জীবন: তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহসভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজ এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও নারী আত্মকর্মসংস্থানে ব্যাপক কাজ করেন।
ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোক:
সেলিমা আহমাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন এফবিসিসিআই, বিডব্লিউসিসিআইসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সেলিমা আহমাদ কেবল একজন সফল ব্যবসায়ী বা রাজনীতিবিদই ছিলেন না, বরং বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক ও বাতিঘর। তাঁর শূন্যতা দেশের অর্থনীতি ও নারী ক্ষমতায়নের লড়াইয়ে এক অপূরণীয় ক্ষতি।