নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম ঐতিহাসিক জয়

June 22, 2026 | Feature-2 |

ক্রীড়া প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের মঞ্চে ৯২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ফুটবল ইতিহাসের প্রাচীনতম দল মিশর। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে রাজকীয় ও দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে ফারাওরা। এই জয়ের নায়ক দলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও একটি গোল।

আজ সোমবার (২২ জুন) কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার বিখ্যাত বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জি’র এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় দুই দল।

ফিন স্যারম্যানের গোল ও প্রথমার্ধে নিউজিল্যান্ডের লিড:

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নিউজিল্যান্ড (অল হোয়াইটস)। ফলশ্রুতিতে ম্যাচের মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় একটি নিখুঁত কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ফিন স্যারম্যান। গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে মিশর। বিরতির ঠিক আগে মোহাম্মদ সালাহ এবং ইমাম আশুর দুজনেই গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রোকোম্বের অসাধারণ দক্ষতায় গোলবঞ্চিত হয় মিশর। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে নিউজিল্যান্ড।

একনজরে মিশরের ঐতিহাসিক জয় ও গ্রুপ ‘জি’-এর সমীকরণ:
ম্যাচের ফল: মিশর ৩ : ১ নিউজিল্যান্ড (বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা)।

৯২ বছরের ইতিহাস: এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কোনো জয়ের মুখ দেখেনি মিশর। ২০২৬ সালের ২২ জুন নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম জয় পেল ফারাওরা।

পয়েন্ট টেবিল ও নকআউট: এই ঐতিহাসিক জয়ে মোট ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-এর সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে মিশর। ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট (১৬ দল) পর্বে যাওয়ার শক্ত অবস্থানে রয়েছে সালাহরা।

পরবর্তী ম্যাচের সূচি: আগামী ২৬ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে সিয়াটলে ইরানের মুখোমুখি হবে মিশর। একই সময়ে ভ্যাঙ্কুভারে নিউজিল্যান্ড খেলবে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

কোচ হোসাম হাসানের চাল ও দ্বিতীয়ার্ধে সালাহ-শো:

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার আগে কৌশলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। কোচের এই রণকৌশল বদলের পর মুহূর্তেই পাল্টে যায় ফারাওদের খেলার গতি। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে মিশরকে ১-১ সমতায় ফেরান মোস্তফা জিকো।

সমতায় ফেরার পর নিজের বিশ্বসেরা ক্লাস দেখান লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ। ম্যাচের ঠিক পরের দিকে জিকোর সঙ্গে চমৎকার ‘ওয়ান-টু পাস’ খেলে ডি-বক্সে ঢুকে এক নিচু শটে বল নিউজিল্যান্ডের জালে জড়ান সালাহ। মিশর পায় ২-১ গোলের লিড। ম্যাচের ৮২ মিনিটে মিশরের জয় নিশ্চিত করেন বদলি খেলোয়াড় ট্রেজেগুয়ে। সালাহর নেওয়া নিখুঁত কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে ট্রেজেগুয়ে হেডে গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে ফারাওদের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে, প্রথমার্ধে ভালো শুরু করেও দ্বিতীয়ার্ধে এসে পুরোপুরি ছন্দ হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে তাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, তারা এখনও নকআউটের রেসে টিকে আছে। তবে পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে শেষ ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে হারানোর কোনো বিকল্প নেই অল হোয়াইটসদের সামনে।



Leave a Comment