অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা: মেসির জোড়া গোল
স্পোর্টস ডেস্ক: অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরী ও রেকর্ড গড়া জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দলকে জেতান এলএমটেন। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট (১৬ দল) পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল স্কালোনির আলবিসেলেস্তেরা।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টায় (যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী সোমবার রাতে) আমেরিকার ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল।
পেনাল্টি মিস ও মেসির অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বরেকর্ড:
ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রিয়ার রক্ষণে কাঁপন ধরায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮ম মিনিটে বক্সের ভেতরে আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর দীর্ঘ পর্যালোচনার পর পেনাল্টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন ম্যাচ রেফারি। কিন্তু স্পট কিক নিতে এসে কোটি ভক্তকে হতাশ করে বল মাঠের বাইরে মারেন লিওনেল মেসি। এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হন তিনি। বিশ্বকাপে এ নিয়ে মোট ৩টি পেনাল্টি মিস করলেন মেসি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো একক খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। এর আগে ঘানার আসামোয়া জিয়ানের সাথে যৌথভাবে ২টি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড ছিল তাঁর।
ম্যাচের ৩৩ মিনিটে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক শ্লাগারের একটি ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে ফাঁকা পোস্টে শট নিয়েছিলেন মেসি, কিন্তু গোললাইন থেকে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা তা দুর্দান্তভাবে ব্লক করলে প্রথমার্ধে গোলবঞ্চিত থাকে আর্জেন্টিনা।
একনজরে বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য নতুন মহাকাব্যিক রেকর্ডসমূহ:
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন মেসি:
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা: অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২ গোল করার পর বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১৮টিতে। তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন।
টানা ৬ ম্যাচে গোল: এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৬টি ম্যাচে গোল করার অনন্য কৃতিত্ব দেখালেন মেসি। ইতিহাসে এর আগে কেবল ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোর এই রেকর্ড ছিল।
অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড: বিশ্বকাপে ৩টি পেনাল্টি মিস করে আসামোয়া জিয়ানকে টপকে সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিসের রেকর্ডটি এখন মেসির একার।
গ্রুপ টেবিলের সমীকরণ ও আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ:
পয়েন্ট টেবিল: গ্রুপ পর্বে টানা ২ জয়ে মোট ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে থেকে শেষ ১৬ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
পরবর্তী ম্যাচ: গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ জর্ডান। আগামী রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথমার্ধের ডেডলক ও অতিরিক্ত সময়ের ম্যাজিক:
পেনাল্টি মিসের পর প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৮ মিনিট বাকি থাকতে (৩৭ মিনিটে) জাদুকরী এক দলগত আক্রমণ থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক মেসি। এই গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্কালোনির দল।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কৌশলগত একাধিক পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৫৮ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর বদলে নামেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি। এরপর একে একে হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো গঞ্জালেস, নিকোলাস তালিয়াফিকো এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামানো হয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ইনজুরি ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছিল, ঠিক তখন অস্ট্রিয়ার ডিবক্সে হুলিয়ান আলভারেজের নেওয়া একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরতি বল চলে আসে মেসির পায়ে। প্রথম দফায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট ব্লক হলেও, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় নিখুঁত শটে বল অস্ট্রিয়ার জালে জড়ান মেসি। আর্জেন্টিনা পায় ২-০ গোলের দাপুটে জয়। ফিনিশিংয়ের অভাবে ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে ব্যবধান আর না বাড়লেও পূর্ণ ৩ পয়েন্ট ও নকআউটের টিকিট নিয়ে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।