রায়পুরে ৪ খুন: রায়পুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ভাড়া বাসায় ঢুকে একই পরিবারের মা ও তাঁর তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় রায়পুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৩টার দিকে নিহত গৃহবধূর একমাত্র জীবিত ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে গণপিটুনিতে নিহত মূল অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সার্বিক দিক বিবেচনা করে অপর মামলাটি করা হয়েছে।
এদিকে আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত চারজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনার পর স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদারের (৩০) মরদেহ এখনো হাসপাতালের হিমঘরেই পড়ে রয়েছে। সে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
একনজরে রায়পুরের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও মামলার বিবরণ:
বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ধানহাটা এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের ভবনে ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র:
| খাতের বিবরণ | তথ্য ও ভুক্তভোগীদের পরিচয় |
| ঘটনাস্থল ও সময় | রায়পুর পৌরসভা, ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড়, ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা। |
| নিহত মা ও মেয়েরা | শাহীনুর বেগম (৩৮), সায়মা আক্তার (২০- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)। |
| মামলার বাদী ও ধারা | নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত; রায়পুর থানায় হত্যা মামলা। |
| তদন্তের মূল সূত্র | টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটপাট, অর্থনৈতিক লেনদেন অথবা বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা। |
টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে হামলা?
নিহত শাহীনুর বেগমের একমাত্র ছেলে ও মামলার বাদী জুনাইদ ইসলাম শিফাত জানান, “হত্যাকাণ্ডটি মূলত টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে ঘটে থাকতে পারে। বাড়িওয়ালা বাসায় না থাকলে অন্য সব ভাড়াটিয়ারা আমার মায়ের কাছেই বাসার ভাড়া জমা দিতেন। পরে বাড়িওয়ালা এসে মায়ের কাছ থেকে সেই টাকা নিয়ে যেতেন। মূলত বাসার পুরো দায়িত্ব আম্মুর কাছেই ছিল। ঘাতকেরা হয়তো বিপুল পরিমাণ টাকা লুটের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়।”
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, নাশকতার কোণ দেখছে পুলিশ:
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারটির সঙ্গে ঘাতক অন্তর মজুমদারের কী সম্পর্ক ছিল বা কেন সে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে— এ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ কেউ নেপথ্যে বড় কোনো পাওনা টাকা বা অর্থনৈতিক লেনদেনের কথা বললেও পুলিশ বিষয়টিকে কেবল সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখছে না। পুলিশ প্রশাসন এখন কোনো সুগভীর নাশকতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাশেদ বলেন, “আলোচিত এই চার খুনের ঘটনায় রায়পুর থানায় এ পর্যন্ত দুটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”