মাধবপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ: বিজিবি ও জনতার যৌথ প্রতিরোধ

June 27, 2026 | Feature-2 |

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) বড় ধরনের একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান, টহল দলের সাহসিকতা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের নাগরিকদের ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

আজ শনিবার (২৭ জুন) বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) গভীর রাতে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই পুশইনের উসকানিমূলক ঘটনাটি ঘটে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্তমানে ওই এলাকায় কড়া নজরদারি ও বিজিবির টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

একনজরে তেলিয়াপাড়া সীমান্তে পুশইন চেষ্টার বিবরণ:
শুক্রবার গভীর রাতে বিএসএফের পরিকল্পনা এবং বিজিবি-জনতার যৌথভাবে তা প্রতিহত করার সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:

ঘটনাস্থল: হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকা।

ঘটনার সময়: ২৬ জুন (শুক্রবার) গভীর রাত।

পুশইনের শিকার সংখ্যা: আনুমানিক ৮ থেকে ১০ জন ভারতীয় নাগরিক।

বিএসএফের কৌশল: রাতের অন্ধকারে সীমান্তের সব নিরাপত্তা বাতি (ফ্লাডলাইট) সম্পূর্ণ বন্ধ করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা।

বিজিবির ভূমিকা: তেলিয়াপাড়া ক্যাম্পের টহলরত বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জাগ্রত জনতার সমন্বিত প্রতিরোধের মুখে পুশইন চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা:
তেলিয়াপাড়া সীমান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সুকৌশলে সীমান্তের ভেতরের নিরাপত্তা বাতিগুলো বন্ধ করে দেয়। এরপর ঘুটঘুটে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক নো-ম্যানস ল্যান্ড পার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে সীমান্তে আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকা বিজিবির নৈশ টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে যায়। সাথে সাথে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও বিজিবির সাথে যোগ দিলে চারপাশ থেকে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। বেগতিক দেখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে পুনরায় নিজেদের সীমান্তের ভেতরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা:

এই ঘটনার পর থেকে মাধবপুর ও তেলিয়াপাড়ার পুরো সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর এবং ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বিজিবির স্থানীয় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখছে। সীমান্ত দিয়ে কোনো বহিরাগত বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে দেওয়া হবে না। এই বিষয়ে বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের (Flag Meeting) আহ্বান জানানো হতে পারে বলেও সীমান্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।



Leave a Comment