সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: ১৪ আরোহীর সবাই নিহত

June 28, 2026 | Feature-1 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের উত্তর উপকূলের কৌশলগত রাস তানুরা (Ras Tanura) এলাকায় দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’ (Saudi Aramco)-র মালিকানাধীন একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কপ্টারে থাকা পাইলট ও ক্রুসহ ১৪ আরোহীর সবাই ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। নিহতদের সকলেই সৌদি আরবের নাগরিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ রোববার (২৮ জুন) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার তথ্যটি বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করে।

একনজরে রাস তানুরায় আরামকোর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার বিবরণ:
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা ও আরামকো তেল শোধনাগারের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:

মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান: সৌদি আরামকো অয়েল কোম্পানি (Saudi Aramco)।

দুর্ঘটনাস্থল: সৌদি আরবের উত্তর উপকূলের নিকটবর্তী রাস তানুরা এলাকা।

মোট আরোহী ও নিহত: ১৪ জন (পাইলট ও ক্রুসহ সবাই নিহত)।

আরোহীদের জাতীয়তা: সকলেই সৌদি নাগরিক।

তদন্তকারী সংস্থা: সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

শোধনাগারের বিশেষ তথ্য: ইরান যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর গত শুক্রবারই (২৬ জুন) এই রাস তানুরা শোধনাগারে পুনরায় তেল উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর মাত্র দুই দিন পরই দুর্ঘটনা:
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ডামাডোলে নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ ছিল সৌদি আরামকোর এই অন্যতম প্রধান রাস তানুরা তেল শোধনাগারটি। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় গত শুক্রবার (২৬ জুন) সেখানে পুনরায় অফিশিয়ালি তেল উত্তোলন ও শোধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্রম চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় কোম্পানির এই অভ্যন্তরীণ বেসামরিক হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের পর উত্তর উপকূলের কাছে রাস তানুরায় বিধ্বস্ত হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত:

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে বা কোনো কারিগরি ত্রুটির ফলে আরামকোর এই হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার শিকার হলো তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে ব্ল্যাক বক্স পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে ওই এলাকায় আরামকোর বিমান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার কারণে তেল শোধনাগারের মূল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি আরামকো কর্তৃপক্ষ।



Leave a Comment