ইয়েমেনে তীব্র সংঘাতে ৮৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত: জাতিসংঘ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের কারণে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আজ এ আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা আইওএম-এর বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
কৌশলগত রুট দখল ও বাস্তুচ্যুতির চিত্র
বিগত এক সপ্তাহ ধরে হুথিদের ব্যাপক ও টানা সামরিক অভিযানের মুখে সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উপকূলীয় অঞ্চল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে:
বাব আল-মানদেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণ: এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালির ওপর হুথিদের সার্বিক কর্তৃত্ব নিশ্চিত হলো।
সেপ্টেম্বরেই বড় ধাক্কা: আইওএম জানায়, বর্তমানে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৮১৮ জনে, যার মধ্যে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ কেবল চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে গৃহহীন হয়েছেন। এর আগে জুলাই থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭৬ হাজার বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তাইজ ও সমুদ্রপথে দেশত্যাগ
লড়াইয়ের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপন্ন রূপ ধারণ করেছে:
তাইজ অঞ্চলের ট্র্যাজেডি: বাস্তুচ্যুতির তালিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাইজ প্রদেশ। তথ্য অনুযায়ী, কেবল এই একটি প্রদেশ থেকেই প্রায় ৯ হাজার ২৮০টি পরিবার বা প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে সংঘাতমুক্ত এলাকার দিকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
জিবুতিতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী প্রবাহ: জীবন বাঁচাতে ইয়েমেনি বাসিন্দারা এখন লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে ভৌগোলিকভাবে কাছে অবস্থিত পূর্ব আফ্রিকান দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নেওয়া শুরু করেছেন। ইতোমধ্যেই ২ হাজারের বেশি মানুষ জিবুতিতে পৌঁছেছেন, যার প্রথম দলটি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিবুতি উপকূলে অবতরণ করে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বার্তা
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ শুরুর পর, সৌদি আরবের বিকল্প তেল রপ্তানির প্রধান রুট হয়ে উঠেছিল এই বাব আল-মানদেব প্রণালি। এর উল্টো পাশে জিবুতির অবস্থান হওয়ায় সংঘাত বাড়ার সাথে সাথে সেখানে শরণার্থী সংকটের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে একটি করে নিঃস্ব পরিবার, যারা সব হারিয়েছে। কোনো উপায় না থাকায় নিঃস্ব অবস্থায় সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে।” সংঘাত অব্যাহত থাকলে শরণার্থী স্রোত আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে সতর্ক করেছে আইওএম।