২০২৬-২৭ সালের বাজেট ‘জীবনবান্ধব’, সংকটকে অজুহাত বানাতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

June 29, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার দায়িত্ব নিলেও এই সংকটকে তারা অজুহাত বানাতে চান না। জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর নীতির মাধ্যমে সফলভাবে এই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা হবে।

আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে সমাপনী বাজেট আলোচনায় প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং পরে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য রাখেন।

একনজরে প্রধানমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার মূল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিকসমূহ:
ধ্বংসস্তূপের অর্থনীতি থেকে উত্তরণ এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রধান বক্তব্যসমূহ:

আলোচনার মূল ক্ষেত্রপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাগৃহীত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও লক্ষ্য
১. বাজেটের নামকরণএই বাজেট সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাবে।বাজেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে আখ্যায়িতকরণ।
২. বাজার পরিস্থিতিঅতীতে বাজেটের আগে-পরে অহেতুক দাম বাড়লেও এবার তা হয়নি।নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে পূর্বের নির্ধারিত ট্যাক্স প্রত্যাহার
৩. উত্তরাধিকার সংকটদুর্নীতি, লোপাট, ভুলনীতি ও ভ্যানিটি প্রজেক্টের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপ হয়েছিল।বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও টাকার ৪০% মান পতনের ধাক্কা সামলানো।
৪. ঋণের বোঝাঅহেতুক দেশী-বিদেশী ঋণ গ্রহণ করা হয়েছিল, যা থেকে রেভিনিউ আসে না।লম্বা সময় ধরে জাতির ওপর চেপে বসা এই ঋণের বোঝা শোধ করার চ্যালেঞ্জ
৫. রাজনৈতিক ঐকমত্যসংকট অস্বীকার করা বোকামি, অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যতে চলতে হবে।সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ

‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিলাম, তবে সংকটকে অজুহাত বানাবো না’:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “আমরা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম তখন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিলাম। দুর্নীতি, লোপাট, অব্যবস্থাপনা এবং ভুলনীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপ হয়ে গিয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছিল, দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছিল, মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছিল চরম পর্যায়ে। পুঁজিবাজারে মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যাও করেছিল।” তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং যাত্রা শুরু করার সাথে সাথেই রমজান মাসের বাজার দর মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সামাল দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন সরকারের এসব সদিচ্ছার কথা ব্যাখ্যা করছিলেন, তখন সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাঁকে বিপুল অভিনন্দন জানান।

ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান:

অতীতে ভালোমন্দ কী হয়েছে সেই বিতর্কে আর না গিয়ে দেশকে অবশ্যই সামনে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “একটি চিত্র আমরা বারবার দেখেছি যে, আমরা যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে যাই তখন অনেক বেশি অতীত নিয়ে কথা বলি। অথচ দেশের প্রত্যেকটি মানুষ চায় আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।”

তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা অনেক কঠিন হলেও সর্বোচ্চ বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান দিয়ে এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সমাজের সকল মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারে। অতীতে বাজেটের পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেলেও এবার ৬১টি পণ্যের ট্যাক্স প্রত্যাহারের কারণে বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি যা জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতারই প্রমাণ।



Leave a Comment