হাসপাতাল ডাস্টবিন থেকে জীবিত কন্যাশিশু উদ্ধার: চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে নবজাতক

June 30, 2026 | Feature-2 |

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি ডাস্টবিন থেকে সদ্যজাত এক কন্যাশিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ডাস্টবিনের ভেতর থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে ফেলে যাওয়া এই শিশুটিকে হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং শিশুটির প্রকৃত মা-বাবার পরিচয় শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

একনজরে ডাস্টবিন থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধার ও বর্তমান পরিস্থিতি (৩০ জুন ২০২৬):
গজারিয়ায় মধ্যরাতে উদ্ধার হওয়া শিশুটির স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:

উদ্ধারের সময় ও তারিখ: ২৯ জুন (সোমবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ১:০০ টা।

উদ্ধারস্থল: গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের ডাস্টবিন (ময়লার স্তূপ)।

উদ্ধারকারী: হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনরা।

শিশুর বর্তমান অবস্থা: কন্যাশিশু; বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং চিকিৎসকদের ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা: অন্য কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জন্মের পর রাতের আঁধারে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ: গজারিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক হাসপাতাল পরিদর্শন এবং পরিচয় শনাক্তে পুলিশি তদন্তের নির্দেশ।

মধ্যরাতের কান্না ও ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার:
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার মধ্যরাতে হাসপাতালের ডাস্টবিনের পাশ থেকে হঠাৎ একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ আসতে থাকে। গভীর রাতে এমন শব্দ শুনে সেখানে ছুটে যান কর্তব্যরত নার্স ও রোগীর স্বজনরা। সেখানে ময়লার স্তূপের মধ্যে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক ফুটফুটে নবজাতককে দেখতে পান তারা। হাসপাতালের এক নার্স জানান, “উদ্ধারের সময় শিশুটি প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিল এবং অনবরত কাঁদছিল। তার শারীরিক অবস্থা দেখে বোঝা গেছে, উদ্ধারের অল্প কিছুক্ষণ আগেই শিশুটির জন্ম হয়েছে। তবে শিশুটির জন্ম এই সরকারি হাসপাতালে হয়নি।”

তদন্তে নেমেছে পুলিশ, সুচিকিৎসার নির্দেশ ইউএনও-র:

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নুসরাত ফারজানা খান নবজাতকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ডাস্টবিন থেকে উদ্ধারের পরপরই নবজাতকটিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ টিম তাকে ২৪ ঘণ্টা নজরে রাখছে।

এদিকে মধ্যরাতে সরকারি হাসপাতালের ডাস্টবিনে জীবিত নবজাতক ফেলে যাওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। গজারিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া রাতেই হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নবজাতকের সুচিকিৎসা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই সঙ্গে শিশুটির প্রকৃত মা-বাবার পরিচয় শনাক্ত করতে এবং কোন ক্লিনিক থেকে তাকে এনে এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



Leave a Comment