আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল পর্যন্ত কোনো নামেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি নয়: তথ্য উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত দলটি অন্য কোনো নামে বা পরিচয়েও কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, “আদালত যখন এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দেবেন, তখন সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে; তার আগে নয়।”
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ও দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা এই গুরুত্বপূর্ণ কথা জানান।
একনজরে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের মূল সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপসমূহ:
আদালতের নির্দেশনা, সীমান্ত পরিস্থিতি, দুর্নীতি দমন এবং এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য:
| আলোচনার মূল ক্ষেত্র | তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত | গৃহীত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও লক্ষ্য |
| ১. আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম | আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা পর্যন্ত সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। | অন্য কোনো নতুন নামে বা পরিচয়েও দলটির কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। |
| ২. শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার | আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম তা অমান্য করছে। | সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যমকে আদালতের আদেশ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান। |
| ৩. সীমান্ত অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) রোধ | ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত। | বিজিবি কর্তৃক ভারত সীমান্তে ১৬৫টি এবং মিয়ানমার সীমান্তে ১৫টি পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত। |
| ৪. উপদেষ্টাদের দুর্নীতি তদন্ত | অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে দুদক তা স্বাধীনভাবে দেখবে। | দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্তে কোনো ধরনের বাধা দেবে না সরকার। |
| ৫. সংসদীয় বিশেষ বরাদ্দ | সংসদের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ও এলাকার উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ। | বিরোধীদলীয় ৬৫ জন সংসদ সদস্যের প্রতিজনকে এলজিআরডি কর্তৃক ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ। |
‘সংকট ও সংস্কারে গণতন্ত্রের প্রতিফলন, দুদকের তদন্তে বাধা দেবে না সরকার’:
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেখানে সরকারে থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা— দুই অংশেরই দায় আছে। তবে সরকারের কোনো উপদেষ্টার বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তা তদন্ত করতে পারবে, সরকার সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ বা বাধা দেবে না। তিনি আরও জানান, ব্যাংক আইনের বহুল সমালোচিত একটি ধারা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ছিল, সরকার চলমান সংসদ অধিবেশনে সেই ধারাটি পরিবর্তন করেছে, যা মূলত জনআকাঙ্ক্ষা ও গণতন্ত্রেরই প্রতিফলন।
খাদ্যের মজুদ বৃদ্ধি ও বজ্রপাত রোধে বিশেষ প্রকল্প:
দেশের অর্থনৈতিক স্বস্তি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের দুটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশে খাদ্যের মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কৃষকেরাও ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন।
এছাড়া দেশব্যাপী বজ্রপাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি জেলায় জরুরি ভিত্তিতে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও বিশেষ ছাউনি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান।