দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে এসি বাসে আগুন: দগ্ধ হয়ে ৮ যাত্রীর মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি দূরপাল্লার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) শয়নবাসে (স্লিপার বাস) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাসটি পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং ঘুমন্ত যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
একনজরে রাজস্থানের দৌসা মহাসড়ক দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ (১ জুলাই ২০২৬):
উত্তরাখণ্ড থেকে মধ্যপ্রদেশগামী বাসের সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান:
দুর্ঘটনার সময় ও তারিখ: ৩০ জুন (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটা (২:৩০ এএম)।
দুর্ঘটনাস্থল: দৌসা জেলা, রাজস্থান, ভারত (দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়ক)।
বাসের রুট: উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর।
দুর্ঘটনার ধরণ: দ্রুতগামী এসি স্লিপার বাসের সাথে একটি বড় পণ্যবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও পরবর্তীতে উভয় যানে অগ্নিকাণ্ড।
হতাহতের সংখ্যা: নিহত ৮ জন; আহত ২২ জন (যার মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক)।
মৃত্যুর কারণ: ৬ জন আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ২ জন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা: বাসের অতিরিক্ত গতি অথবা চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন (ঘুমিয়ে) পড়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ: বাসের মালামাল রাখার বক্সে প্রচুর সিগারেটের প্যাকেট (দাহ্য বস্তু) থাকায় আগুন দ্রুত ছড়ায় এবং দমকল বাহিনী পৌঁছাতে প্রায় ১ ঘণ্টা দেরি করে।
মধ্যরাতের ট্র্যাজেডি: জানালা ভেঙে বাঁচার আকুল আকুতি:
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসের অধিকাংশ যাত্রীই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। উচ্চগতিতে চলতে থাকা বাসটি হঠাৎ একটি পণ্যবাহী ট্রাককে ধাক্কা দিলে মুহূর্তের মধ্যে দুটি গাড়িতেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। বাসের ভেতর আটকা পড়া যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন এবং কয়েকজন জানালা ভেঙে লাফিয়ে বের হতে পারলেও বাসের ওপরের শয্যায় (আপার বার্থ) থাকা যাত্রীরা নিচে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত দিলেও আগুনের লেলিহান শিখার কারণে বাসের ভেতরে থাকা ৫ যাত্রীকে জীবন্ত পুড়ে মরতে দেখতে হয়েছে।
তদন্তে নেমেছে রাজস্থান প্রশাসন, যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ:
আহত ২২ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। রাজস্থান রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের খবর দেওয়া হচ্ছে।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দূরপাল্লার স্লিপার বাসে অগ্নিকাণ্ড ও বড় সড়ক দুর্ঘটনা নতুন করে যাত্রী নিরাপত্তা ও বাসের অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।