৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর না খুললে জনগণই তালা ভাঙবে: নাহিদ ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও এনসিপি (NCP) নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি এই জাদুঘর খুলে দেওয়া না হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে জাদুঘর খুলে ভেতরে প্রবেশ করবে।”
আজ বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজধানীর রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের উদ্দেশে এই আলটিমেটাম দেন।
একনজরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) আলটিমেটাম ও সুনির্দিষ্ট ৪ দফা দাবি:
রায়েরবাজারে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উত্থাপিত প্রধান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দাবিগুলো:
| ক্রমিকে দাবি সমূহ | আলোচনার মূল ক্ষেত্র ও প্রেক্ষাপট | এনসিপি (NCP) নেতার সুনির্দিষ্ট দাবি ও অবস্থান |
| ১. জাদুঘর উন্মুক্তকরণ | জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খোলার বিষয়ে সরকারের দীর্ঘসূত্রতা। | ৫ আগস্টের মধ্যে জাদুঘর খুলে দিতে হবে, অন্যথায় জনগণই প্রবেশ করবে। |
| ২. ইনুর সাজা নিয়ে আপত্তি | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা। | ইনুর ১০ বছরের সাজা মানি না; আপিলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি চাই। |
| ৩. বিচার প্রক্রিয়া ও প্রত্যর্পণ | জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ। | বিচার দ্রুত করা, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ও শেখ হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর। |
| ৪. গণঅভ্যুত্থানের কর্মসূচি | জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘনিয়ে এলেও সরকারের নীরবতা। | শুধু নামকাওয়াস্তে পালন নয়, জুলাই সনদ, গণভোটের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে। |
‘শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না’:
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া গতকালের ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক। হাসানুল হক ইনুকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম প্রধান সহযোগী উল্লেখ করে এই এনসিপি নেতা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যা ও ষড়যন্ত্রের প্রধান দোসর ইনুর মাত্র ১০ বছরের সাজা হতে পারে না। এই লঘু দণ্ডে জুলাইয়ের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না। আমরা উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট দোসরদের সর্বোচ্চ ও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো প্রত্যাশা করছি।”
২য় বার্ষিকীর কর্মসূচি ও রাষ্ট্র সংস্কারের তাগিদ:
সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী দোরগোড়ায় চলে এলেও সরকার এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, “শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে এ দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। অবিলম্বে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং দ্রুততম সময়ে রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।”
গণকবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় সাধারণ নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।