৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই
নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে চলা নানামুখী আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত গ্রিন সিগন্যাল মিলেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায়ে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর করে দিয়েছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আইন কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এই রায়ের ফলে সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক গতিশীলতা এবং শূন্য পদ পূরণের দীর্ঘদিনের সংকট দূর হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট ও রায়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, বিগত ২০১৩ সালে সরকার দেশের প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জাতীয়করণ বা অধিগ্রহণ করে। সেই সময় সরকার একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করে যার নীতিমালায় বলা হয়েছিল, অধিগ্রহণকৃত স্কুলের সকল শিক্ষক সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন, তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা সরকারি সুযোগ-সুবিধায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে পদায়িত হবেন। তৎকালীন শিক্ষকেরা সরকারের এই আইনটি মেনে নিয়েই চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। তবে ওই বিশেষ আইনের একটি নির্দিষ্ট বিধানে উল্লেখ ছিল যে, যারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন, জ্যেষ্ঠতার বা সিনিয়রিটির তালিকায় তাদের অবস্থান থাকবে সবার উপরে।
অন্যদিকে জাতীয়করণ হওয়া বেসরকারি স্কুল থেকে আগত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা বা সিরিয়াল থাকবে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের নিচে। একই সাথে ওই শিক্ষকদের পূর্ববর্তী বেসরকারি আমলের চাকরির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির সুবিধা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কাউন্ট বা হিসাব করার বিধান রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অধিগ্রহণকৃত স্কুলের শিক্ষকেরা এই বিধানের বিরোধিতা করে দাবি তোলেন যে, তারা পূর্বে প্রধান শিক্ষক থাকায় সরকারিতেও সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদের মর্যাদা পাবেন এবং তাদের চাকরির শতভাগ মেয়াদই জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে গণনা করতে হবে। এই দাবিতে তারা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করলে হাইকোর্ট বিভাগ শিক্ষকদের পক্ষে রায় দিয়ে সরকারের তৈরি জ্যেষ্ঠতার ওই আইনটি বাতিল ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আপিল করা হলে আজ দীর্ঘ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায়টি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেন, যার ফলে সরকারের তৈরি করা আইনটিই বহাল থাকল।
মামলার শুরুতে ২৬ হাজার স্কুলের কথা বলা হলেও রায়ে ৩২ হাজার পদের তথ্য আসার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০১৩ সালে যখন স্কুলগুলো অধিগ্রহণ করা হয় তখন সংখ্যাটি ২৬ হাজার ছিল। কিন্তু দীর্ঘ এই আইনি জটিলতার কারণে বিগত বছরগুলোতে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাভাবিক নিয়মেই অবসরে গেছেন এবং সেসব পদে নতুন কোনো নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে আরও ৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে এই সংখ্যাটি প্রায় ৩২ হাজারে এসে ঠেকেছে। আপিল বিভাগের আজকের এই যুগান্তকারী রায়ের পর এখন দেশের এই বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে সরকারের আর কোনো আইনি বাধা রইল না।