জামায়াতের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি অনন্য নেয়ামত: ডা. শফিকুর রহমান

July 4, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের ভেতরের সুদৃঢ় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অত্যন্ত পবিত্র একটি “নিয়ামত”, যা সমসাময়িক অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে সচরাচর খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, তাঁদের দলের ভেতরে কঠোর শৃঙ্খলা, উচ্চ নীতি-নৈতিকতা এবং পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে সার্বক্ষণিক জবাবদিহিতার একটি অনন্য সংস্কৃতি দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান রয়েছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্যদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তাত্ত্বিক ও দলীয় কথা বলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের সারা জীবনের কষ্টার্জিত সুনাম ও বড় বড় অর্জন একটি মাত্র ছোট ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলন বা দুর্ঘটনার কারণে মুহূর্তের মধ্যে ম্লান হয়ে যেতে পারে; তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নৈতিকতা ও সততার ওপর অটল থাকা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, এই ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ সকল বড় বড় সংগ্রামের সম্মুখ সারির নেতৃত্ব দিয়েছে মুসলমানরা, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে দেশভাগের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতা লাভ করে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ ৮৬ বছরের কণ্টকাকীর্ণ ইতিহাসে অসংখ্য ত্যাগী, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী যুক্ত ছিলেন, যাদের অনেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর পথে তাঁদের এই ঐতিহাসিক ত্যাগের কাঙ্ক্ষিত ফল এ দেশের মজলুম জাতি একদিন অবশ্যই পাবে বলে তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমান ধর্মীয় গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, আল্লাহকে ডাকতে হবে অন্তরের গভীর থেকে সম্পূর্ণ একিন ও ইখলাসের সঙ্গে, কারণ যেখানে এই দুটি গুণের একত্রে সমাহার ঘটে, সেখানে মানুষের সাথে আল্লাহর কোনো দূরত্ব থাকে না। তিনি আরও দাবি করেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে তাঁদের এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে সবচেয়ে বেশি কঠিন পরীক্ষা, জুলুম ও রাজনৈতিক বাধার মুখোমুখি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে সাধারণ মুসলমানরা এক ধরনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। বিশেষ করে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান অমানবিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর বৈশ্বিক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াতের সবচেয়ে বড় বর্তমান চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সামাজিক বাধা। মুসলমানদের আদর্শিকভাবে “সার্বজনীন গোষ্ঠী” হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে উল্লেখ করা হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদেরকে “সাম্প্রদায়িক” হিসেবে তকমা দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। সংসদীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে এ দেশের সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদে তাঁদের মোট ৯০টি আসনে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব রয়েছে বলে তিনি তাঁর বক্তৃতায় দাবি করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজ থেকে সম্পূর্ণ ভালো, সৎ ও যোগ্য মানুষদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাছাই করে জনপ্রতিনিধিত্বের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে, যারা ব্যক্তিজীবনে হালাল উপার্জনকারী এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখেন। বক্তব্যের শেষাংশে দলীয় নেতাকর্মীদের নসিহত করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ ও আল-কোরআনের আদর্শকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরলে মানুষ ইহকাল ও পরকালে কখনো পথ হারায় না। তাই সমাজ ও দেশকে সামগ্রিকভাবে নৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে আল্লাহর এই বিশেষ নিয়ামতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধারণ করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। সমাপনী এই শিক্ষাশিবিরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশজুড়ে আসা জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



Leave a Comment