ব্যবসায়ীকে নির্যাতন ও অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
বরিশাল ব্যুরো: বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে ঢুকে শারীরিকভাবে চরম লাঞ্ছিত, নির্যাতন এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার এক জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশ্য দিবালোকে এই লোমহর্ষক ও বর্বর ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোস্তাফিজ রহমান লিটু, যিনি বরিশাল নগরীর কাটপট্টি রোডের বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত লিটু আকস্মিকভাবে তাঁর অফিস কক্ষে প্রবেশ করে প্রথমে তাঁকে নানা ধরনের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে লিটু তাঁর ওপর হিংস্রভাবে চড়াও হন এবং তাঁর অণ্ডকোষ চেপে ধরে ও অমানুষিক শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে দুটি চেক এবং দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
এদিকে, একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে তাঁর নিজস্ব অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে এমন কায়দায় নির্যাতনের একটি নির্মম ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো বরিশাল নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন। জানা গেছে, ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম আজ সাংবাদিকদের জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়ানোর পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এই ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ওসি স্পষ্ট করে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত মোস্তাফিজ রহমান লিটুর বিরুদ্ধে দ্রুত ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।