সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

July 6, 2026 | Feature-2 |

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় নিজের মুদির দোকানের টিনের চাল বিদ্যুতায়িত হয়ে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলেসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অনন্তপুর গ্রামে এই অবর্ণনীয় ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন— অনন্তপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা নুরুল আমিন (৭০), তাঁর সহধর্মিণী ফাতেমা বেগম (৬০) এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান ফরহাদ (৩০)। চোখের পলকে একই পরিবারের তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং শোকার্ত স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে অনন্তপুর গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার বিকেলের দিকে নুরুল আমিনের বাড়ির সামনে অবস্থিত তাঁদের নিজেদের মালিকানাধীন মুদির দোকানের টিনের চালের ওপর দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের প্রধান সঞ্চালন লাইনের একটি তার হঠাৎ করেই ছিঁড়ে পড়ে। তারটি সরাসরি চালের ওপর পড়ায় পুরো টিনের দোকানটি মুহূর্তের মধ্যে শক্তিশালী বিদ্যুতে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। এই সময় অসাবধানতাবশত দোকানের চালের সংস্পর্শে থাকায় ছেলে ফরহাদ প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আটকা পড়েন এবং ছটফট করতে থাকেন। ছেলেকে এই অবর্ণনীয় অবস্থায় দেখে বাঁচাতে বাবা নুরুল আমিন দ্রুত এগিয়ে যান এবং তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। একপর্যায়ে চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে ফাতেমা বেগম আর স্থির থাকতে পারেননি; তিনি তাঁদের উদ্ধার করতে তীব্র আকুলতায় এগিয়ে গেলে তিনিও বিদ্যুতের মরণফাঁদে আটকে পড়েন। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দূর থেকে বিষয়টি টের পেয়ে লাঠি ও শুকনো বাঁশ দিয়ে কোনোমতে তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে; স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়মিত তদারকির অভাব ও জরাজীর্ণ তারের কারণেই এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



Leave a Comment