খামেনির জানাজায় ইরানিদের মাঝে খাবার বিতরণ করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ভিডিও ভাইরাল
নিউজ ডেস্ক: ইরানের সদ্যপ্রয়াত ও নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ শোকাতুর মানুষের মাঝে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে নিজ হাতে খাবার বিতরণ করেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়া একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও চিত্রে এই বিরল দৃশ্যটি সরাসরি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইরানের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় শহর কোমের একটি জনাকীর্ণ সড়কে বড় একটি খাবারের বাকেট নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বাকেটটিতে ছোট ছোট প্যাকেটে করে তৈরি করা বেশ কিছু খাবার সংরক্ষিত ছিল, যা তিনি খামেনির জানাজা ও শোকযাত্রায় দূর-দূরান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী ক্লান্ত শিয়া নারী, পুরুষ ও কোমলমতি শিশুদের মাঝে পরম মমতায় নিজ হাতে একের পর এক বিতরণ করছিলেন। এই সময় উপস্থিত শোকাহত সাধারণ ইরানি নাগরিকরা তাঁকে চারপাশ থেকে কৌতূহল ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে ঘিরে ধরেন এবং তাঁর হাত থেকে খাবার গ্রহণ করেন; তবে বিতরণকৃত ওই সব প্যাকেটে ঠিক কী ধরনের খাবার ছিল তা ভিডিও দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৩ জুলাই ইরানের এই প্রভাবশালী প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সশরীরে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ সফরে ইরানে যান এনসিপির শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এদিকে নিহত সর্বোচ্চ নেতার পবিত্র মরদেহ আজ মঙ্গলবার বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে রাজধানী তেহরান থেকে কোমে এসে পৌঁছালে পুরো শহর এক আবেগঘন শোকের নগরীতে পরিণত হয়। সেখানে টানা তৃতীয় দিনের মতো শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তীব্র গরম ও রোদ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মানুষের এক অভূতপূর্ব ও সুবিশাল জনস্রোত। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র কোমে বিশেষ শোকযাত্রা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মাশহাদ শহরে নিজ জন্মভূমিতে খামেনিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনির শেষ বিদায়ে রাজধানী তেহরান ও পবিত্র কোমে মানুষের এই ঐতিহাসিক ও বাঁধভাঙা উপস্থিতি ১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের মহানায়ক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার মহাসমাবেশের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। লাখো মানুষের এই বিশাল শোকযাত্রায় সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়াদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ঠিক এমন একটি নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের একটি উদীয়মান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে এভাবে খাবার বিতরণের দৃশ্যটি দেশে ও বিদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।