চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও বন্যার প্রবল শঙ্কা: ৮ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতের নির্দেশ

July 7, 2026 | Feature-2 |

চট্টগ্রাম ব্যুরো: টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম মহানগরে মারাত্মক জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহানগরের আটটি আশ্রয়কেন্দ্র সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা স্বাক্ষরিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার এক বিশেষ ও জরুরি নির্দেশনায় আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের ওই নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তীব্র তারতম্য বিরাজ করছে। আর এই বৈরী আবহাওয়া ও বায়ুচাপের আধিক্যের কারণে দেশের সমুদ্রবন্দর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে ক্ষিপ্র দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে আগামী কয়েকদিন এই ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিনের অবিরাম ও রেকর্ডভাঙা টানা বর্ষণের ফলে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন নিচু ও প্রধান প্রধান এলাকা সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে মহানগরের নিচু অঞ্চলের বহু মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি, পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ ভূমিধস ও পাহাড়ধসের আশঙ্কাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

এমতাবস্থায়, সম্ভাব্য যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড় ধরনের প্রাণহানি মোকাবিলায় পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৮৬.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত: তলিয়ে গেছে বহু সড়ক

জেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান চারটি সার্কেলের অধীনে মোট আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চান্দগাঁও সার্কেলের অধীনে আল-হেরা মাদ্রাসা ও রশিদিয়া মাদ্রাসা; আগ্রাবাদ সার্কেলের অধীনে ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুল ও ইমরুল কোরআন মহিব্বিয়া দ্বীনিয়া এতিমখানা; কাট্টলী সার্কেলের অধীনে ফিরোজশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বি-ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাকলিয়া সার্কেলের অধীনে লালখানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করে সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া মাত্রই এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো কোনো বিলম্ব ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে পুরোদমে চালু করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সেখানে সফলভাবে স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে হবে। জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।



Leave a Comment