ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫০০, এখনো নিখোঁজ হাজারো মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের অন্যতম প্রলয়ংকরী ও শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা একলাফে বেড়ে সাড়ে তিন হাজার (৩,৫০০) ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সর্বশেষ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই লোহমর্ষক ও ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে থাকায় এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকায় নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও উপদ্রুত এলাকাগুলোতে এখনো কানায় কানায় জমে আছে স্বজনহারা মানুষের আহাজারি এবং ধসে পড়া বহুতল ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষ। ভূমিকম্পের তীব্রতায় দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে উচ্চমাত্রার এই ভূমিকম্পটি যখন আঘাত হানে, তখন বেশির ভাগ মানুষই ঘরের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে চোখের পলকে অসংখ্য বহুতল আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ধসে পড়ে মাটির সাথে মিশে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি থাকা জনবহুল শহর ও উপান্ত অঞ্চলগুলোতে। দুর্গত এলাকায় সেনা সদস্য, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের হাজার হাজার কর্মী দিনরাত অবিরাম উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন দিয়ে ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে একের পর এক লাশ ও গুরুতর আহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরগুলো আহতদের উপচে পড়া ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং জরুরি রক্ত ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। জাতিসংঘের বিশেষ ত্রাণ সংস্থা এবং রেড ক্রসের কয়েকটি দল ইতিমধ্যেই খাদ্য, পানি ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে রাস্তাঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া এবং বহু সেতু ধসে পড়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এখনো সরকারি ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যার ফলে সেখানে তীব্র খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার বিপুল পরিমাণ প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধারকাজে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।