লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা; সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত বহাল
আবহাওয়া প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী স্থল নিম্নচাপটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে আসলেও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি। আর এই উদ্ভূত বৈরী পরিস্থিতির কারণে দেশের সবকটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন ও নিয়মিত পূর্বাভাসে দেশবাসীকে সতর্ক করে এই জরুরি তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ভারতের ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি ধীরগতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই লঘুচাপটি আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে এটি দুর্বল হলেও এর পরোক্ষ প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের তীব্র আধিক্য বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া এই গভীর বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে দেশের প্রধান প্রধান সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে আকস্মিক দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়া বিবেচনা করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাগরে অবস্থানরত জেলেদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর বঙ্গোপসাগরে চলাচলরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে না গিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে কঠোর পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।