উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড়ধস: ৫ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু
উখিয়া প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণের জেরে কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক পাহাড়ধসের ঘটনায় ৫ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই লোহমর্ষক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনায় পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শরণার্থী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আকস্মিকভাবে এই ভয়াবহ ধসের দুর্ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক এই পাহাড়ধসের পর পরই পুরো ক্যাম্প এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
খবর পাওয়া মাত্রই দুর্গত এলাকায় আটকা পড়া দুর্ভাগা শিক্ষার্থীদের জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধারের লক্ষ্যে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২টি বিশেষ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। তাঁদের এই উদ্ধার কাজে স্থানীয় সাধারণ শরণার্থী ও প্রশাসনও ব্যাপকভাবে সহায়তা প্রদান করছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অত্যন্ত প্রতিকূল ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরলসভাবে মাটির নিচে চাপা পড়া মানুষদের বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে অত্যন্ত গুরুত্বর অবস্থায় ৩ জন শিক্ষার্থীর নিথর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ার কারণে হতাহতের এই সংখ্যা সামনের সময়ে আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই কর্মকর্তা। এদিকে স্থানীয় মাঝিদের এবং উদ্ধার কাজে নিয়োজিত প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অন্তত ২০ জনেরও অধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ চাপা পড়ে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছে। নিখোঁজদের স্বজনেরা ঘটনার পর থেকেই ধসে পড়া পাহাড়ের পাদদেশে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, যা সেখানকার পরিবেশকে ভারী করে তুলেছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ ও কাদার কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও নিখোঁজদের উদ্ধারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।