কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮

July 8, 2026 | Feature-2 |

উখিয়া প্রতিনিধি: টানা কয়েক দিনের আম্পান ও মৌসুমী ভারী বর্ষণের জেরে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি দ্বীনি মাদরাসার ওপর বিশাল পাহাড়ধসে পড়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জন শিক্ষার্থীর নির্মম ও মর্মান্তিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই লোহমর্ষক ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত ও কাদার নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। পাহাড়ের এক বিশাল মাটির স্তূপ ধসে মাদরাসার ওপর আছড়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে হাহাকার শুরু হয়। খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় আটকা পড়াদের জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় দ্রুত বের করে আনার লক্ষ্যে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২টি বিশেষ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। নিখোঁজ ও মাটির নিচে চাপা পড়াদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের সেই উদ্ধার অভিযান এখনও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলমান রয়েছে।

এদিকে গত কয়েক দিনের টানা নিরবচ্ছিন্ন ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সামগ্রিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ও লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটায় রাঙামাটি থেকে বান্দরবান, রাজস্থলী, খাগড়াছড়ি, মহালছড়ি, বাঘাইছড়ি এবং লংগদু অভিমুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ৬টি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জেলা শহর ও দূরবর্তী উপজেলাগুলোর মধ্যে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং হ্রদে তীব্র স্রোত তৈরি হওয়ার কারণে সব ধরনের ছোট নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ি নদীর পানি উপচে রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি ইতিমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

পার্বত্য অঞ্চলের এই চরম দুর্যোগপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবং পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন আগের দিনই রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় ভ্রমণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সাজেক সড়কে পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং ছোট ছোট কালভার্ট ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য দফায় দফায় মাইকিং করা হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



Leave a Comment