চান্দিনায় লরির ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশা পুকুরে: নিহত ২
কুমিল্লা প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক ভয়াবহ ও লোহমর্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে তীব্র গতিতে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের গভীর পুকুরে পড়ে গেছে একটি পণ্যবাহী লরি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও হাড়হিম করা দুর্ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশার চালক ও এক কিশোর যাত্রীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সিএনজিতে থাকা আরও এক আরোহী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা নামক এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—সিএনজিচালক হানিফ মিয়া (৩৫) এবং ১৫ বছর বয়সী কিশোর যাত্রী লাবিব হোসেন। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সজীব হোসেন (২৪) একই উপজেলার দাঁড়িয়াপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং তিনি নিহত লাবিবের আপন মামাতো ভাই বলে স্বজনেরা নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় দুপুরের দিকে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটি চান্দিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে অটোরিকশাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নূরীতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে ধেয়ে আসা একটি দ্রুতগামী চট্টগ্রামমুখী মালবাহী লরি তাণ্ডব চালিয়ে সিএনজিটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে লরিসহ একসাথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গভীর পুকুরে ছিটকে পড়ে নিমেষেই তলিয়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে এসে বৃষ্টির মাঝেই উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং পুকুরের পানি থেকে সিএনজিতে আটকে থাকা মুমূর্ষু চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরবর্তীতে কুমিল্লার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর ক্ষত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চালক হানিফ মিয়া ও যাত্রী লাবিব হোসেনের করুণ মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। স্থানীয় জনতা ও উদ্ধারকারীদের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘাতক লরি ও দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজিটি পুকুর থেকে উদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সাফ জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে একই পরিবারের দুই সদস্যের হতাহত হওয়া ও চালকের মৃত্যুর খবর দাঁড়িয়াপুর গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক মাতম ও শোকের ছায়া নেমে আসে।