পাহাড় ও উপকূলে বন্যা পরিস্থিতি: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, লাখো মানুষ খাদ্য সংকটে
নিউজ ডেস্ক: কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের তিন পার্বত্য জেলা (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি) এবং উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বানের পানিতে তলিয়ে গিয়ে কয়েক লাখ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
বান্দরবানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, খাদ্য সংকট
সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি উপচে বান্দরবান জেলার বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে। সেখানে পানিবন্দী লাখ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসন এবং দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। তবে প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় এখনও কোনো সাহায্য পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাঙামাটিতে পাহাড় ধস, যোগাযোগ বন্ধ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে এখনও জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বাঘাইছড়িতে পাহাড়ের মাটি ধসে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা হয়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে বাঘাইছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
খাগড়াছড়িতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি
জেলাটিতে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি। নিচু এলাকাগুলো থেকে চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি পুরোপুরি নেমে গেছে এবং সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে খাগড়াছড়ির ছোট মেরুং ইউনিয়নে পরিস্থিতি এখনও নাজুক; সেখানে হাজারও পরিবার এখনও জলমগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
কক্সবাজারে কমছে পানি, তবে বাড়ছে দুর্ভোগ
এদিকে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি কমলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনও প্লাবিত হয়ে আছে। বিস্তীর্ণ এলাকা ঢলের পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। পানি নামার সাথে সাথে এসব এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।