জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

July 23, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আখ্যা দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। একইসঙ্গে তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং শহীদদের স্মরণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনা নামকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি-সংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর (মিরপুর জোন) আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’-এর দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

‘গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদও অবৈধ’
বর্তমান সরকার ও সংসদকে জুলাই বিপ্লবের ফসল উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, “সরকারকে জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। কিন্তু এখন সরকার গণভোটের রায় নিয়ে টালবাহানা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন, আমরাও চালিয়েছি। এখন যদি গণভোটকে অবৈধ বলা হয়, তবে সরকার ও সংসদ—সবই অবৈধ হয়ে যায়। গোশত হালাল কিন্তু ঝোল হারাম—এমনটা হতে পারে না। সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ সরকার থাকে না।”

তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের রায় ও সংবিধান সংস্কারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় সরকারকে চরম চড়া মূল্য দিতে হবে।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ
আওয়ামী শাসন আমলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে, যা ফ্যাসিবাদকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন ‘এই আসলাম’, কিন্তু আজও ফিরতে পারেননি। আসুন, এ দেশের যুবসমাজ আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”

জনসভায় শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) জামায়াত-মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন:

সংসদ সদস্যবৃন্দ: ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ: অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান, আব্দুর রহমান মূসা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত।

অন্যান্য: ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল—একটি এমপি হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। কিন্তু সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে তা পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। জনগণ এই চক্রান্ত মেনে নেবে না এবং গণরায় বাস্তবায়নে বাধ্য করবে।



Leave a Comment