সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের রায় অবজ্ঞা করা যাবে না: ডা. শফিকুর রহমান
রাজনৈতিক প্রতিবেদক: সংবিধানের অজুহাত দেখিয়ে গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, জনগণের স্পষ্ট রায়কে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা বা সরকার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা শাখা আয়োজিত ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ আফজাল হোসাইনের পরিচালনায় সকালে ৮:৩০ টায় মাওলানা আব্দুস সালামের ‘দারসুল কুরআন’-এর মাধ্যমে এ সম্মেলন শুরু হয়।
গণভোটের রায় ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “পরিবর্তনের স্বার্থে গণভোটে জনগণ যে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, তা পাশ কাটিয়ে সরকার নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করছে। একই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একটি রায়কে নিজের সুবিধামতো গ্রহণ করা হবে আর অন্যটিকে প্রত্যাখ্যান করা হবে—এই ধরনের দ্বিমুখী নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের রায়ের অবমাননার প্রতিবাদেই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি সংসদে জনগণের দাবির সঠিক সমাধান না আসে, তবে সাধারণ মানুষই গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজপথে তার ফয়সালা করবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদের ইতিহাস ও জুলাই গণহত্যা
ইতিহাসের ধারাবাহিক গণহত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদের গণহত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নির্বিচারে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা চালানোয় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন করা হয়েছিল। এমনকি সরকার শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পরিবারের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তা ঠিকভাবে করেনি।
অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সীমান্ত নীতি
সংগঠনের রুকনদের উদ্দেশে জামায়াত আমীর স্পষ্ট করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কোনো ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, এটি সাধারণ মানুষের সংগঠন। তাই চলার পথে ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।”
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না এবং নিজেদের বিষয়েও হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না। সীমান্ত এলাকায় শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক শীর্ষ নেতারা সাংগঠনিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন:
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল): জামায়াতকে যারা নির্মূলের চক্রান্ত করছে তারাই রাজনৈতিকভাবে নির্মূল হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি রুকনদের শপথমুখী জীবন গড়ার আহ্বান জানান।
সাইফুল আলম খান মিলন এমপি (নির্বাহী পরিষদ সদস্য): জনগণ বর্তমান শাসনব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট হয়ে বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজছে। জামায়াতকে সমাজ পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি (ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আমীর): ইসলামের সৌন্দর্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিজেদের উন্নত চরিত্রের দৃষ্টান্ত স্থাপন ও গণমুখী নেতৃত্ব তৈরির তাগিদ দেন।
সম্মেলনে ঢাকা জেলার সর্বস্তরের পুরুষ ও নারী রুকনসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।