নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে আইওএমের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান

August 3, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এ আহ্বান জানানো হয়।

দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণ
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (জিসিএম)-এর চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তিনি আইওএমকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে আইওএমের অধিকতর সহায়তা কামনা করেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও কৃষিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরি এবং ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে নারী অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংকট নিরসন ও রোহিঙ্গা ইস্যু
সংকটকবলিত দেশগুলো থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সরিয়ে নেওয়া ও দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইওএমের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, টেকসই পুনর্বাসন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন এবং মানবপাচার রোধে যৌথ কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি আইওএমের মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

আইওএমের প্রশংসা ও যৌথ প্রত্যয়
আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দূরদর্শী উদ্যোগ ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার স্বীকৃতি দেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিবাসীদের সার্বিক অধিকার সুরক্ষা এবং মানবিক ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ-আইওএম অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



Leave a Comment