আল্লামা সাঈদী মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন অনাদিকাল ধরে: জামায়াত আমীর
নিউজ ডেস্ক: বিখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধার্ঘ্যমূলক পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
পোস্টে তিনি বলেন, কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন অনাদিকাল ধরে, আল্লামা সাঈদী তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব।
পোস্টের শুরুতে কুরআনের সূরা ফুসসিলাতের ৩৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আল্লামা সাঈদী এই জনপদের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন কেবল মানুষকে কুরআনের দিকে এবং আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানোর জন্য। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর তাফসীর মাহফিলগুলো অগণিত মানুষের ধর্মীয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। বুখারী শরীফের হাদিসের আলোকেও তিনি কুরআন শিক্ষা ও প্রসারে সারা জীবন উৎসর্গ করেছেন।
আল্লামা সাঈদীর রাজনৈতিক ও সংসদীয় জীবনের কথা স্মরণ করে জামায়াতের আমীর উল্লেখ করেন, মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি তাফসীরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদে পৌঁছেছিলেন। সেখানে তিনি দ্বীনি মূল্যবোধ, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। বিশেষ করে, সংসদে স্পিকারের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রবেশের যে প্রচলিত রীতি ছিল, তা আল্লামা সাঈদীর বিশেষ প্রচেষ্টাতেই বন্ধ হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর বিপুল জনসমর্থন ও ভাবমূর্তি বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার মতো নয়।
বিচারের বিষয় এবং তাঁর ওপর জুলুমের কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমীর লেখেন, যুগে যুগে সত্যের আহ্বায়কদের ওপর যেমন পরীক্ষা এসেছে, আল্লামা সাঈদীর ওপরও তেমনই নির্মম জুলুম চালানো হয়েছিল। তাঁর পক্ষে সাক্ষী দিতে আসা সুখরঞ্জন বালিকে গুম করার ঘটনা এবং পরবর্তীতে ফাঁসির রায়ের দিন রাজপথে নেমে আসা জনতার ঢলের কথা তিনি স্মরণ করেন। ডা. শফিকুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আল্লামা সাঈদীর রায়-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার একদিন বাংলাদেশে অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রেখেও মানুষের মন থেকে আল্লামা সাঈদীর প্রতি ভালোবাসা মুছে ফেলা যায়নি। যখন তিনি কারাগারে ছিলেন, তখনও এদেশের ঘরে ঘরে তাঁর কণ্ঠে ধারণকৃত তাফসীর বেজেছে। সময়ের পরিক্রমায় তাঁকে বন্দি রাখা সরকারের পতন হলেও, তাঁর রেখে যাওয়া দাওয়াত ও অনুসারীদের ভালোবাসা থেকে গেছে।
কবি আল মাহমুদের কবিতার চরণ উদ্ধৃত করে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, অর্ধশতাব্দী ধরে যে কণ্ঠ মানুষকে পরম করুণাময়ের দিকে ডেকেছে, আজ তা নীরব। কিন্তু এই নীরবতাই হয়তো প্রভুর সান্নিধ্যে পৌঁছে যাওয়ার এক অনন্ত রহস্য।
পোস্টের শেষে তিনি মরহুম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে, তাঁর দ্বীনি খেদমতগুলো কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম ও শাহাদাতের মর্যাদা দান করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।