ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তটরেখা বা উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সমুদ্রতীর ছেড়ে ডাঙার ভেতরের দিকে বা উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আল জাজিরা স্টাফ, এএফপি, রয়টার্স ও দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে ৭.৭ মাত্রার একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে (জিএমটি শুক্রবার ২১:৫৮) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার।
মূল ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে ৩টি আফটারশক অনুভূত হয়, যেগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫.৯, ৫.৬ এবং ৬.১।
পূর্ব নুসা তেংগারা পুলিশ প্রধান রুডি দারমোকো প্রাথমিক প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ে সিক্কা রিজেন্সিতে দুজন এবং মাংগারাই রিজেন্সিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, শহর ও গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে তথ্য পেতে বিলম্ব হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা জটিল হয়ে পড়েছে।
পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা সাংবাদিকদের বলেন, নিহত এই পাঁচজন ঘুমানোর সময় ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।
জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে বিপুল সংখ্যক ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মাউমেরে অঞ্চলের আশপাশের এলাকাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের সমুদ্র সৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে থাকার এবং উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এই সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ছে
ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপের প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ভয়াবহ ও তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন। এছাড়া আশপাশের পুরো অঞ্চলে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে তীব্র কম্পন অনুভব করেছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও আফটারশকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জেসিকা ওয়াশিংটন জানান, স্থানীয় আবহাওয়া সংস্থার মতে ভূমিকম্পের এই আফটারশক বা অণুকম্পন “বেশ কয়েক দিন ধরে” চলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কতখানি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো পুরোপুরি বের হয়ে আসছে, তবে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রাথমিক উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না কারণ পথগুলো অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। স্থানীয়দের সমুদ্রতীর ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ ও ২৭ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় এটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।
এর আগে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে ফ্লোরেসের এই একই উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২৫০০ এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।