সেনবাগে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোশাররফ হোসেন মজুমদার (৫৫) নামে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেশারপাড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কানকিরহাটের উদ্দেশে যাওয়ার পথে সেনবাগ সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মোশাররফ হোসেন মজুমদার কেশারপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেশারপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ মজুমদারের চাচাতো ভাই।
বেপরোয়া মাইক্রোবাসের ধাক্কা ও উদ্ধার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কেশারপাড় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে চেয়ারম্যান আবদুল হক সুমন ও বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাযোগে কানকিরহাটের দিকে রওনা হন। পথে একটি দ্রুতগতির মাইক্রোবাস অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশার চালক ও দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মাদারীপুরের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মোশাররফ হোসেনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ইউনিয়ন বিএনপি নেতার অকাল মৃত্যুর খবরে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অত্র এলাকার স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচলের কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তাঁরা সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত ব্যবস্থা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য গিয়েছে।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত মাইক্রোবাসটিকে আটক করা হলেও চালক কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।